ডেস্ক: ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসের শুরুতেই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ করে তাঁদের উদ্দেশে সম্মান জ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেখানেই এদিন তিনি সম্মান জানান দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে। পাশাপাশি তাঁর গলায় ছিল নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা সহ বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীকে। পাশাপাশি করোনা যোদ্ধাদের শ্রদ্ধাদের জানান প্রধানমন্ত্রী। লাল কেল্লায় আমন্ত্রিত অলিম্পিয়ানদের উদ্দেশে তালি বাজিয়ে সম্মান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি যুব সমাজকেও সম্মান জানালেন মোদী। তিনি বলেন, ‘অলিম্পিয়ানরা শুধু আমাদের মন জয় করেননি, তাঁরা পরবর্তী প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করেছেন।’
এদিন দিল্লির লালকেল্লার বুক থেকে একাধিক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন মোদী। এদিন তিনি গতিশক্তি প্রকল্প থেকে শুরু করে ন্যাশনাল হাইড্রোজেন মিশন সহ একাধিক বড় প্রকল্পের ঘোষণা করেন। এদিন ভারতের কোভিড যুদ্ধকে কুর্নিশ জানিয়ে মোদী বলেন, ‘গোটা বিশ্বের সব থেকে বড় টিকাকরণ প্রকল্প চলছে ভারতে। কোউইন অ্যাপের মাধ্যমে টিকাকরণের ডিজিটাল শংসাপত্র দেওয়ার বিষয়টি বিশ্বের অন্য দেশগুলিকেও আকর্ষিত করছে। ভারত নিজের টিকা বানিয়ে বড় সঙ্কট থেকে নিজেকে রক্ষা পেয়েছে। তা না হলে এই পরিস্থিতিতে টিকা পাওয়া যেত, কি যেত না, কার উপর ভরসা করা যেত, তা বলা কঠিন হত।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৫ বছর ভারত ও তার নাগরিকদের জন্য ‘অমৃত কাল’। মোদি বলেন, অমৃত কালের উদ্দেশ্য হল নাগরিকদের জীবনকে উন্নত করা, গ্রাম ও শহরের মধ্যে উন্নয়ন বিভাজন কমিয়ে আনা, মানুষের জীবনে সরকারি হস্তক্ষেপ কমানো এবং সর্বশেষ প্রযুক্তি গ্রহণ করা যাতে আমরা বিশ্বের কোনও দেশের থেকে পিছিয়ে না থাকি। যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদীর মতে, কঠোর পরিশ্রম এবং সাহসিকতা একসঙ্গে না আসা পর্যন্ত এই ধরনের সংকল্প অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘ন্যাশনাল হাইড্রোজেন মিশন’ প্রকল্পের ঘোষণা করলেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা মোদীর। তিনি জানান, ভারত যাতে প্রচুর পরিমান গ্রিন হাইড্রোন উৎপন্ন করে রফতানি করতে পারে, সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মোদী বলেন, ”৮০ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে রেশন। ১০০ শতাংশ ঘরে বিদ্যুৎ। গ্রাম ও শহরের মধ্যে কোনও ফারাক থাকবে না। সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন কর্মসূচি হয়েছে বাংলায়। ৫৮ কোটি ভ্যাকসিনেশন হয়েছে। প্রতিটি ঘরে শৌচালয় ও পাণীয় জল পৌঁছে দেবে সরকার। দ্রুততার সঙ্গে দেশের উন্নতির কাজ শুরু করতে হবে। প্রযুক্তিতে যেন পিছিয়ে না থাকে দেশ।”
আরও পড়ুন: কন্যাশ্রী দিবসে বাংলার মেয়েদের সাফল্যে গর্বিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, টুইটে জানালেন সে কথা
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সৈনিক স্কুলগুলি মেয়েদের জন্য খুলে দেওয়ার জন্য চিঠি লিখেছেন অনেকেই। তাই এ দিন তিনি লালকেল্লা থেকে ঘোষণা করলেন, দেশের সব সৈনিক স্কুলের দরজা মেয়েদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, বড় পরিবর্তন, বড় সংস্কার আনতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন। আজ, বিশ্ব দেখতে পাচ্ছে যে ভারতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব নেই। সংস্কার আনতে ভালো ও স্মার্ট গভর্নেন্স দরকার। ভারত কিভাবে শাসনের নতুন অধ্যায় লিখছে তার সাক্ষী বিশ্ব।
‘হাসপাতালে নয়া অক্সিজেন প্লান্ট। স্বাস্থ্য পরিষেবায় বিশেষ নজর। উত্তর-পূর্বে শিগগির রেল যোগাযোগ তৈরি হবে। আগামী ২৫ বছর অমৃতকাল। ছোট কৃষকদের পাশে নানা সংযোজন। তাদের পাশে থাকবে সরকার। বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষিতে জোর দেওয়া হবে। কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে ইতিমধ্যেই”, এদিন বললেন প্রধানমন্ত্রী। ”দেশজুড়ে ওষুধের কম দামের ব্যবস্থা করা হবে। সবার জন্য উজ্জ্বলা থেকে আয়ুষ্মান যোজনার ব্যবস্থা করছে সরকার। এটাই কাজ করার আসল সময়। সবার সাথ, সবার বিকাশ, সবার প্রয়াস এই লক্ষ্যে পৌঁছতে দেরি হবে না। উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। সেখানকার ৭ রাজ্যের পর্যটনে জোর দেওয়া হবে”, বললেন মোদী।