কলকাতা: জনতা উন্নয়ন পার্টির (JUP) প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই মেপে পা ফেলল আলিমুদ্দিন। বুধবার রাতের সেই ‘নিভৃত’ সাক্ষাৎ নিয়ে দলের অন্দরে ও বাইরে ওঠা সমালোচনার জবাব দিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। জোট জল্পনা একপ্রকার উড়িয়ে দিয়ে সেলিমের সাফ কথা, “সেলফি তোলা মানেই প্রেম নয়।”
হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে সিপিএমের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এই আবহে সেলিম এদিন স্পষ্ট করে দেন যে, কারও সঙ্গে দেখা হওয়া মানেই রাজনৈতিক জোট নয়। তিনি বলেন, “কারও মুখে ঝাল না খেয়ে আমি চেখে দেখি না। কারা বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত থাকবে, তা বুঝে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” সেলিমের দাবি, আসন সমঝোতা বা জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আলিমুদ্দিন থেকেই হবে, অন্য কোথাও নয়।
জোটের অগ্রাধিকার নিয়েও এদিন দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রাজ্য সম্পাদক। তিনি জানান, প্রথম অগ্রাধিকার পাবে বামফ্রন্ট। শরিকদের সঙ্গে আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরপর ফ্রন্টের বাইরে থাকা বামপন্থী দল ও ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা হবে। হুমায়ুনের রাজনৈতিক অতীত মনে করিয়ে দিয়ে সেলিমের খোঁচা, “একসময় ও মমতার কোলে ছিল, আবার বিজেপিতে গেল। এখন কে কাকে চোখ মেরেছে, সেটা চোখের বালি হয়ে যাচ্ছে!”
পাশাপাশি, জোট প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকেও কড়া আক্রমণ শানান সেলিম। অধীর চৌধুরীর সময়ের সমঝোতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শুভঙ্করবাবুর তৃণমূলের প্রতি একটু বেশি দরদ আছে। তিনি নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, এআইসিসির জন্য অপেক্ষা করেন। বামফ্রন্ট দিনের পর দিন অপেক্ষা করবে না।” কংগ্রেসকে দ্রুত অবস্থান স্পষ্ট করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে সেলিম বুঝিয়ে দিলেন, ছাব্বিশের লড়াইয়ে বামেরা নিজেদের শর্তেই এগোতে চায়।