প্রথম পাতা খবর মুড অব দ্য নেশন সমীক্ষা: মোদীর জনপ্রিয়তায় ভাটা, চড় চড় করে রেটিং পড়ছে সরকারের

মুড অব দ্য নেশন সমীক্ষা: মোদীর জনপ্রিয়তায় ভাটা, চড় চড় করে রেটিং পড়ছে সরকারের

267 views
A+A-
Reset

আগস্ট ২০২৫-এর ইন্ডিয়া টুডে-সিভোটার মুড অব দ্য নেশন (MOTN) সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তা টিকে থাকলেও ফেব্রুয়ারির তুলনায় সামান্য হ্রাস পেয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে যেখানে ৬২ শতাংশ মানুষ তাঁর কাজকে ইতিবাচক বলে মনে করেছিলেন, আগস্টে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ শতাংশে। একইসঙ্গে মোদীর কাজকে ‘আউটস্ট্যান্ডিং’ বলে মনে করা মানুষের হারও ৩৬.১ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ৩৪.২ শতাংশে। যদিও সামান্য পতন হয়েছে, তবুও ১১ বছরের শাসনের পরও এতটা জনসমর্থন ধরে রাখা ভারতীয় রাজনীতিতে বিরল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের মতে, মোদীর ব্যক্তিগত ক্যারিশমা, পররাষ্ট্রনীতিতে দৃঢ় ভূমিকা এবং হিন্দুত্বভিত্তিক সমর্থন তাঁর জনপ্রিয়তাকে এখনও শক্ত অবস্থানে রেখেছে।

এনডিএ সরকারের কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

মোদীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি শক্তিশালী থাকলেও সমীক্ষা বলছে, এনডিএ সরকারের রেটিংয়ে বড়সড় ধস নেমেছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ সরকারের কাজকে ভালো বলেছিলেন ৬২.১ শতাংশ মানুষ। আগস্টে সেই সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে ৫২.৪ শতাংশে। এ ছাড়া ১৫.৩ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা না সন্তুষ্ট, না অসন্তুষ্ট—যা ফেব্রুয়ারির ৮.৬ শতাংশ থেকে অনেকটাই বেড়েছে। সরকারের কর্মদক্ষতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রায় ২৬ শতাংশ উত্তরদাতা। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মোদীর ব্যক্তিগত ইমেজ ও সরকারের কাজকর্মের মধ্যে ফারাক স্পষ্ট করছে। মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ঘাটতি ও গ্রামীণ অর্থনীতির চাপ এই অসন্তোষ বাড়িয়েছে বলেই ধারণা।

বিরোধীদের সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা

সরকারি রেটিংয়ে পতন বিরোধীদের জন্য রাজনৈতিকভাবে একটি সম্ভাবনার জানালা খুলে দিয়েছে। বিরোধী জোট INDIA যদি কর্মসংস্থান, মূল্যবৃদ্ধি ও কৃষক সমস্যার মতো ইস্যুগুলি সামনে আনতে পারে, তবে কেন্দ্রকে চাপের মুখে ফেলতে সক্ষম হবে। 

রাজনৈতিক তাৎপর্য

এই সমীক্ষা একদিকে যেমন দেখাচ্ছে মোদীর ক্যারিশমা এখনও দেশের রাজনীতিতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী, অন্যদিকে এনডিএ সরকারের কর্মদক্ষতা নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ বাড়ছে। ফলে “মোদী বনাম সরকার”—এই দ্বৈত চিত্রটাই এবার সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বিজেপির কাছে এক বড় সতর্কবার্তা। কারণ, যদি এই প্রবণতা চলতে থাকে, তবে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পথ আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.