নয়াদিল্লি: প্রয়াত মুলায়ম সিং যাদব। ভারতীয় রাজনীতিতে এক বর্ণময় অধ্যায়ের সমাপ্তি।
সোমবার হাসপাতালেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিংহ যাদব। উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তাঁর প্রয়াণের সঙ্গেই ইতি পড়ল ভারতীয় রাজনীতির এক বর্ণময় অধ্যায়ে।
গত ২ অক্টোবর, রবিবার অসুস্থতা বাড়ায় তাঁকে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে সন্ধ্যায় তাঁকে আইসিইউতে পাঠানো হয়। তার পর মুলায়মের শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলেও এই রবিবার আচমকাই অবস্থার অবনতি হয় তাঁর। হাসপাতাল সূত্রে খবর, রবিবার রাতে অক্সিজেনের স্তর অনেকটাই নেমে গিয়েছিল। তার পরে পরিস্থিতির আর উন্নতি হয়নি। হাসপাতালেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি।
উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে ‘নেতাজি’ বলে পরিচিত মুলায়ম সিং যাদব ১৯৩৯ সালের ২২ নভেম্বর এটাওয়ার সাইফাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রাম মোনহর লোহিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে রাজনীতিতে যোগ দেন তরুণ মুলায়ম। তারপর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু পালাবদলের সাক্ষী থেকেছেন তিনি।
১৯৬৭ সালে প্রথমবার বিধায়ক হন মুলায়ম সিং যাদব। সংযুক্ত সোশালিস্ট পার্টির টিকিটে। সংসদীয় রাজনীতিতে পথচলা শুরু হয় মুলায়মের। এর পর কত চড়াই-উৎরাই। তিন দফায় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মুলায়ম। ১৯৮৯-তে প্রথম বার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হন (১৯৮৯ থেকে ১৯৯১)। তখন তিনি জনতা দলের বিধায়ক। ১৯৯৩-তে আবার মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম (১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫)। নিজের দল সমাজবাদী পার্টি। ২০০৩-এ আবার মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি (২০০৩ থেকে ২০০৭)।
১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত তিনি ছিলেন কেন্দ্রের দেবেগৌড়া সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ১৯৯৬ সালে প্রথম বার সাংসদ হন। ২০০৪ সালে মুখ্যমন্ত্রিত্বের কারণে লোকসভা ভোটে দাঁড়াননি। ২০০৯ সাল থেকে আমৃত্যু সংসদের সদস্য ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরীর।
এরই মধ্যে ১৯৯২ সালে মুলায়ম সিং যাদবের জীবনে নতুন অধ্যায়ের শুরু। নিজের দল সমাজবাদী পার্টি তৈরি করেন। মুলায়মের দল সমাজবাদী পার্টির রাশ এখন তাঁর ছেলে অখিলেশ যাদবের হাতে।