ঝাড়খণ্ডে কাজে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে জেলায়। ‘বাঙালি বিদ্বেষ’-এর অভিযোগে ফের সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে শনিবার বহরমপুরের সভা থেকে জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেক জানান, পরিযায়ী শ্রমিকেরা সমস্যায় পড়লেই যেন জেলা প্রশাসনের হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করেন। তিনি দু’টি নম্বর ঘোষণা করেন— ৭৪৩০০০০০৩০ এবং ৯১৪৭৮৮৮৩৮। তাঁর কথায়, শ্রমিকদের অভিযোগ শোনার পর জেলা প্রশাসনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। তিনি আরও জানান, আলাউদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনার পরেই ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন-এর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ডের পলামুর বিশ্রামপুর এলাকা থেকে আলাউদ্দিনের দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, বাংলাদেশি সন্দেহে তাঁকে খুন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে অ্যাম্বুল্যান্সে করে দেহ মুর্শিদাবাদে আনা হলে উত্তেজনা ছড়ায়। মহেশপুর মোড় সংলগ্ন ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয়েরা। পরে রেল অবরোধও হয়। এক পর্যায়ে আপ লালগোলা প্যাসেঞ্জার ট্রেনে ইট ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। বিকেল সাড়ে তিনটার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজ বাংলা ভাষায় কথা বললেই পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার হচ্ছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে কেন এমন হচ্ছে? পেটানো ধর্ম নয়, জীবন দেওয়া ধর্ম।” রাজ্য সরকার আলাউদ্দিনের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার ঘোষণাও করেছে। শনিবার অভিষেক জানান, তিনি নিজে আলাউদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন।