ফের নন্দীগ্রামে সমবায় নির্বাচনে বড় জয় পেল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের রানিচক সমবায় সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৪৫টি আসনে নির্বাচন হয়। ফলাফলে দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেস ২৭টি আসনে জয় পেয়েছে। বিজেপি পেয়েছে মাত্র ১৮টি আসন।
ফল প্রকাশ হতেই এলাকায় সবুজ আবির খেলায় মেতে ওঠেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। সামনেই বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র গড় বলে পরিচিত নন্দীগ্রামের রানিচক সমবায় সমিতিতে এই জয় শাসক শিবিরের মনোবল অনেকটাই বাড়াবে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।
তবে নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা কম ছিল না। শনিবার রাত থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নন্দীগ্রাম এলাকা। অভিযোগ, গভীর রাতে তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীদের বাড়িতে হামলা চালায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। পালটা প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল কর্মীরাও রাস্তায় নামে। লাঠি-বাঁশ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে অভিযোগ। এমনকি বোমাবাজির ঘটনাও ঘটে।
এই সংঘর্ষে মোট ১২ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে ৫ জনের চোট গুরুতর। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে নন্দীগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর মধ্যেই রবিবার সকাল থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। অশান্তি এড়াতে গোটা এলাকাকে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় নির্বাচন কেন্দ্রগুলিতে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, রানিচক সমবায় সমিতির ৪৫টি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনে আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি প্রার্থী দিয়েছিল ৪০টি আসনে। ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে ফলাফলে তৃণমূলের স্পষ্ট এগিয়ে থাকা নিশ্চিত হয়।
বলে রাখা প্রয়োজন, গত রবিবার নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের আমদাবাদ সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেডের নির্বাচনেও ১২-০ ব্যবধানে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছিল তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীরা। সেখানে বিজেপি খাতাই খুলতে পারেনি।
শুধু নন্দীগ্রাম নয়, ভগবানপুর ১ ব্লকের কাজলাগড় গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কাজলাগড় বীরাঙ্গনা মাতঙ্গিনী প্রাথমিক বহুমুখী মহিলা সংঘ সমবায় সমিতির পরিচালন কমিটির নির্বাচনেও দাপট দেখিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মোট ২১টি আসনের মধ্যে ১৫টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং ৪টি আসনে বিপুল ভোটে জয় পায় শাসকদল।
পরপর সমবায় নির্বাচনে এই ফলাফল যে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসকে বাড়তি রাজনৈতিক অক্সিজেন দেবে, তা বলাই বাহুল্য।