দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে ৭৮ বছর আগে। অথচ যাঁকে ‘দেশনায়ক’ বলে কুর্নিশ জানায় ভারত, সেই সুভাষচন্দ্র বসুর পার্থিব অবশেষ আজও পড়ে রয়েছে বিদেশের মাটিতে। নেতাজির ১২৯তম জন্মদিনে ফের একবার তাঁর চিতাভস্ম ভারতে ফিরিয়ে আনার আর্জি জানালেন কন্যা অনিতা বসু পাফ। জার্মানি থেকে এক বার্তায় তাঁর কাতর অনুরোধ, ‘‘নেতাজিকে আর নির্বাসনে রাখবেন না! দয়া করে ওঁকে দেশে ফিরতে দিন।’’
‘নির্বাসন’ ও নেতাজির ঘৃণা বাবার এক পুরনো উক্তি মনে করিয়ে দিয়েছেন অনিতা। তিনি জানান, সুভাষচন্দ্রকে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি কোন জিনিসটিকে সবচেয়ে বেশি ভয় পান ও ঘৃণা করেন? উত্তরে নেতাজি বলেছিলেন, ‘‘নির্বাসনে থাকা।’’ অথচ ভাগ্যের পরিহাসে মৃত্যুর ৮০ বছর পরেও তাঁর চিতাভস্ম একপ্রকার ‘নির্বাসিত’ হয়েই পড়ে রয়েছে জাপানে।
রেনকোজি প্রসঙ্গ ও দীর্ঘ প্রতীক্ষা অনিতা উল্লেখ করেছেন, টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে নেতাজির চিতাভস্ম রাখা হয়েছিল সাময়িকভাবে। তৎকালীন পুরোহিত ‘কয়েক মাসের জন্য’ তা সংরক্ষণ করতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু সেই কয়েক মাস আজ ৮০ বছরে পরিণত হয়েছে। নরসিংহ রাও সরকারের আমলে এই চিতাভস্ম ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সম্পন্ন হয়নি। অশীতিপর অনিতা চান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরেই এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হোক।
বিমান দুর্ঘটনা ও ডিএনএ পরীক্ষা নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে বিতর্ক থাকলেও অনিতা বসু পাফ ১৯৪৫ সালের ১৮ অগস্ট তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনার তত্ত্বেই বিশ্বাসী। তিনি জানান, বর্তমানে লভ্য একাধিক নথি এবং অন্তত ১১টি তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে বিমান দুর্ঘটনার বিষয়টি মেনে নেওয়াই যুক্তিযুক্ত। প্রয়োজনে ওই চিতাভস্ম যে নেতাজিরই, তা প্রমাণ করতে ডিএনএ (DNA) নমুনা দিতেও তিনি প্রস্তুত বলে ফের জানিয়েছেন।