গ্রামীণ এলাকায় বাড়ি নির্মাণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও অবৈধ নির্মাণ নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হচ্ছে নতুন নিয়ম। পঞ্চায়েত এলাকায় বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ বা সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখলে ফি-তে ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার পথে রাজ্য সরকার। পরিবেশবান্ধব নির্মাণে উৎসাহ এবং নির্মাণশৈলীতে শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে।
শহর ছাড়িয়ে এখন বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় দ্রুত বাড়ছে দোতলা-তিনতলা পাকাবাড়ি ও বহুতল। এতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগও উঠেছে। বছর খানেক আগে নবান্নে সেই অভিযোগ পৌঁছনোর পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, গ্রামীণ বাড়ি নির্মাণে স্পষ্ট নিয়ম তৈরি করতে হবে। সেই অনুযায়ী নতুন বিল্ডিং রুলস এখন চূড়ান্ত হওয়ার পথে। খসড়া ইতিমধ্যেই অর্থদপ্তরে পাঠানো হয়েছে, অনুমোদন মিললেই নিয়ম কার্যকর হবে।
কোন ক্ষেত্রে ছাড় মিলবে?
- ১৫.৫ মিটারের কম উচ্চতার বাড়ি (সাধারণ ব্যক্তিগত বাড়ি)
- বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকলে → ১০% ফি ছাড়
- সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকলে → ১০% ফি ছাড়
- বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকলে → ১০% ফি ছাড়
- ১৫.৫ মিটারের বেশি উচ্চতার বাড়ি (৩-৪ তলা ও তার উপরে)
- বৃষ্টির জল সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক
- ফি-ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি
- বৃষ্টির জল সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক
নির্মাণের পর কমপ্লিশন সার্টিফিকেট (CC) দেওয়ার সময় বিশেষজ্ঞ দল দেখে নিশ্চিত করবে—বাড়িতে সত্যিই ওই ব্যবস্থা রয়েছে কি না। পরিকল্পনায় থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে ব্যবস্থা না থাকলে ছাড় বাতিল হতে পারে।
কীভাবে ফি নির্ধারিত হবে?
বর্তমানে সব বিল্ডিং প্ল্যান আবেদন অনলাইনে জমা পড়ে। ফি নির্ধারিত হয় সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতির বাই-ল অনুযায়ী। তবে এবার নবান্নের নীতি কার্যকর হলে রাজ্যের সব পঞ্চায়েতকে এই ছাড় ও নিয়ম মানতেই হবে।
পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানান, “মানুষের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই এই রুলস নিয়ে আসা হচ্ছে। প্রকৃতি রক্ষা ও সুশৃঙ্খল নির্মাণ—দুই দিকেই লাভ।”