রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর শিলিগুড়ি সফরকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিকে ঘিরে বিজেপি যে প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে, তা সরাসরি খারিজ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সমস্ত নিয়ম মেনেই রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে এবং এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে বিজেপি।
শনিবার সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে গোটা ঘটনার ব্যাখ্যা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিল নামে একটি বেসরকারি সংস্থা শিলিগুড়িতে একটি সম্মেলনের আয়োজন করে এবং সেখানে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে জেলা প্রশাসনের মতে ওই অনুষ্ঠানের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছিল না। বিষয়টি লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতি সচিবালয়কে জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, রাষ্ট্রপতি শিলিগুড়িতে পৌঁছনোর পর প্রোটোকল মেনেই স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা তাঁকে স্বাগত জানান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার। নিয়ম মেনেই রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা এবং বিদায় জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ওই অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিত থাকার কোনও পরিকল্পনাই ছিল না। ফলে প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। উল্টে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে ব্যবহার করছে।
অন্যদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তীব্র হয়েছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মন্তব্য করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ছোট বোনের মতো এবং তিনি বাংলার মানুষকে ভালোবাসেন। তবে তাঁকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রী উপস্থিত না থাকায় তিনি বিস্মিত হয়েছেন বলে জানান।
রাষ্ট্রপতির সেই মন্তব্যের পরই সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি লেখেন, এই ঘটনা লজ্জাজনক এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষকে আঘাত করেছে। তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতির মতো পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা উচিত এবং সেই মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্র ও রাজ্যের এই সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘর্ষেরই ইঙ্গিত বহন করছে।