সমুদ্র সৈকতে শুটিং করতে গিয়ে কীভাবে মৃত্যু হল অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের, তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে টলিপাড়া। রবিবার সন্ধে থেকেই গোটা ইন্ডাস্ট্রিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, পাশাপাশি তৈরি হয়েছে একাধিক সন্দেহ। আউটডোর শুটিংয়ে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না সহকর্মীরা। গত চব্বিশ ঘণ্টা ধরে টালিগঞ্জ স্টুডিওপাড়ার নজর ছিল ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে।
সোমবার তমলুক মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ার প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, অভিনেতার ফুসফুসে প্রচুর পরিমাণে জল ও বালির উপস্থিতি মিলেছে। শুধু তাই নয়, খাদ্যনালী এবং শ্বাসনালীতেও জল ও বালির চিহ্ন পাওয়া গেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ডুবে যাওয়ার সময়ই এই জল ও বালি শরীরে প্রবেশ করে এবং ফুসফুস ফুলে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
তবে এখানেই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ইঙ্গিত, এত অল্প সময় জলে থাকলে এমন পরিস্থিতি হওয়ার কথা নয়। অন্যদিকে প্রোডাকশন টিমের দাবি, ডুবে যাওয়ার চার থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই রাহুলকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ফলে রিপোর্ট এবং ইউনিটের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে।
এদিন তমলুক মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের পর বহু মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন। প্রয়াত অভিনেতার মরদেহ নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হন তাঁর ঘনিষ্ঠরা। সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকেও ফুলের মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
দুপুরে বিজয়গড়ে রাহুলের বাড়িতে পৌঁছনোর আগেই সেখানে উপস্থিত হন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। টলিপাড়ার বহু শিল্পী ও সহকর্মীও ভিড় জমান। জানা গিয়েছে, টেকনিশিয়ান স্টুডিও নয়, বাড়িতেই শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন বন্ধু, সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠরা। এই ঘটনার পর টলিপাড়ায় আউটডোর শুটিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।