জাতীয় স্তরে সমমনস্ক জোটে থাকার বার্তা দিলেও, নির্বাচনের মুখে রাজ্য রাজনীতিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা গেল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের মুখে। মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সাংসদ ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। নারী সুরক্ষা, বেকারত্ব, শিল্পের অবনতি—একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন তিনি।
সম্প্রতি এসআইআর ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একসঙ্গে সরব হয়েছিল কংগ্রেস ও তৃণমূল। তবে বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এরই মধ্যে রায়গঞ্জের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে একাধিক প্রশ্নে ঘিরে ধরেন রাহুল। বিশেষ করে আরজি কর হাসপাতালের ঘটনাকে তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, এই ঘটনায় শাসকদলের কর্মীদের ভূমিকা ছিল এবং সরকার দায় এড়িয়ে যাচ্ছে।
বেকারত্ব নিয়েও কড়া সুরে আক্রমণ শানান কংগ্রেস নেতা। তাঁর বক্তব্য, একদিকে কর্মসংস্থানের দাবি করা হচ্ছে, অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতী ভাতার লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে শিল্পের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রাহুল গান্ধী এদিন বিজেপিকেও একহাত নেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি দেশে বিভাজনের রাজনীতি করছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ভূমিকার কারণেই বিজেপির উত্থান সম্ভব হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, রাজ্যে যদি সুশাসন থাকত এবং হিংসার পরিবেশ না থাকত, তাহলে বিজেপির জায়গা তৈরি হত না। সভা থেকে প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির স্মৃতিচারণ করে রাহুল বলেন, তাঁর মতো নেতৃত্ব থাকলে আজ পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের অবস্থান ভিন্ন হতে পারত। আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় স্তরে জোট থাকলেও রাজ্যে কংগ্রেস-তৃণমূল দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।