বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার নির্বাচিত হলেন রথীন্দ্র বসু। শুক্রবার সকালে বিধানসভায় প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের তত্ত্বাবধানে স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হয়। সর্বসম্মতিক্রমেই স্পিকারের কুর্সিতে বসেন বিজেপির এই বিধায়ক।
শাসকদল বিজেপির তরফে রথীন্দ্রর নাম প্রস্তাব করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই প্রস্তাব সমর্থন করেন দিলীপ ঘোষ। ধ্বনি ভোটে জয়ী হয়ে স্পিকার নির্বাচিত হন রথীন্দ্র। অধিবেশন শুরু হয় ‘বন্দে মাতরম্’ গান দিয়ে। যদিও স্পিকার নির্বাচন পর্বে তৃণমূল বিধায়কেরা উপস্থিত ছিলেন না। পরে তাঁরা সভায় যোগ দেন।
নিয়ম মেনে স্পিকার নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে স্পিকারের আসনে বসেন রথীন্দ্র। প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।
স্পিকারকে স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছর বিধানসভা গঠনমূলক ভাবে কাজ করবে এবং বিরোধীদের বক্তব্য রাখার পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধীরা বিধানসভার কার্যপ্রণালী ব্যাহত করার চেষ্টা করবেন না। পরে বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও শুভেচ্ছা জানান আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এবং সিপিএম বিধায়ক মুজাফর রহমান রানা।
রথীন্দ্র বসু প্রথম বারের বিধায়ক। পেশায় তিনি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। দীর্ঘ দিন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিককে ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেন তিনি। সাধারণত আইনজীবী বা আইনজ্ঞদেরই স্পিকার পদে মনোনীত করা হয়। সেই অলিখিত প্রথা ভেঙেই রথীন্দ্র বসুকে স্পিকার পদে বসিয়েছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন মুখকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে ভিন্ন বার্তা দিতে চেয়েছে শাসকদল।