এবার ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেডে কেন্দ্রীয় সরকারের থিম নির্ধারিত হয়েছে ‘বন্দেমাতরম’ এবং ‘সমৃদ্ধি কা মন্ত্র— আত্মনির্ভর ভারত’। উল্লেখযোগ্য ভাবে, ‘বন্দেমাতরম’ শব্দটি থাকছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রস্তাবিত ট্যাবলোর থিমেও। তবু সেই ট্যাবলো অনুমোদন দেয়নি কেন্দ্র—যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে।
রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত ট্যাবলোর ভাবনায় তুলে ধরা হয়েছিল—ঋষি Bankim Chandra Chattopadhyay-র রচিত ‘বন্দে মাতরম’ কীভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলা-সহ গোটা দেশের বিপ্লবীদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল। কীভাবে ‘বন্দেমাতরম’ স্লোগান তুলেই হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে এগিয়ে গিয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামীরা—তার ঐতিহাসিক উল্লেখও ছিল এই ট্যাবলোতে।
এই ট্যাবলোতে একসঙ্গে তুলে ধরার পরিকল্পনা ছিল Rabindranath Tagore, Kazi Nazrul Islam, Subhas Chandra Bose-সহ বাংলার মনীষী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবদান। পাশাপাশি থাকত বিপ্লবী বিনয়-বাদল-দীনেশ-এর মতো আত্মবলিদান দেওয়া যোদ্ধাদের ছবি। পুরো ট্যাবলো জুড়ে বাজানোর পরিকল্পনা ছিল দেশাত্মবোধক গান, যা স্বাধীনতা আন্দোলনের আবহকে আরও জোরালো করে তুলত।
রাজ্যের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের নিজস্ব থিমের সঙ্গে এই ভাবনার স্পষ্ট মিল থাকা সত্ত্বেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনস্থ এক্সপার্ট কমিটি বাংলার ট্যাবলোকে অনুমোদন দেয়নি। পাঁচ দফা বৈঠকের পরেও একই সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছে শাসক শিবির।
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে, ‘বন্দেমাতরম’—যা আজ সর্বভারতীয় থিম হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে—তার জন্মভূমি বাংলা। সেই বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবদান জাতীয় মঞ্চে তুলে ধরতে বাধা দেওয়া মানে ইতিহাসকেই অস্বীকার করা। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য।