নয়াদিল্লি: হাজারও টানাপোড়েন আর জল্পনার অবসান। অবশেষে ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসে (Republic Day) কর্তব্যপথে সগৌরবে প্রদর্শিত হলো পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলো। এবারের কুচকাওয়াজে ১৭টি রাজ্যের ট্যাবলোর মধ্যে বাংলার থিম ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে বিপ্লবীদের আত্মত্যাগ। আর সেখানেই ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাল বাংলা।
মনীষীদের শ্রদ্ধার্ঘ্য এবারের বাংলার ট্যাবলোর মূল ভাবনা ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালির অবদান। ট্যাবলোর সম্মুখভাগে দেখা গিয়েছে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে। এছাড়াও ট্যাবলোতে স্থান পেয়েছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, স্বামী বিবেকানন্দ। বাদ যাননি নারী ও তরুণ বিপ্লবীরাও। মাতঙ্গিনী হাজরা থেকে শুরু করে বিনয়-বাদল-দীনেশ—বাংলার অগ্নিসন্তানদের বীরগাথা তুলে ধরা হয়েছে দিল্লির রাজপথে। উল্লেখ্য, প্রতিবারের মতো এবারও বাংলার ট্যাবলো বাতিল হওয়া নিয়ে প্রাথমিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষমেশ সব জট কাটিয়ে এই ট্যাবলো জায়গা করে নেয়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সামনেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। তার ঠিক আগে দিল্লির বুকে এই ট্যাবলো প্রদর্শন রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ সম্বোধন নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে বাংলার মনীষীদের অপমানের অভিযোগ তুলেছিল শাসকদল। সেই বিতর্কের আবহেই কর্তব্যপথে বঙ্কিমচন্দ্র-সহ বাংলার আইকনদের এই উপস্থিতি এক বিশেষ বার্তা দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অন্যান্য রাজ্যের ট্যাবলো ও বলিউড বাংলার পাশাপাশি এদিন নজর কেড়েছে তামিলনাড়ু, কেরল, মহারাষ্ট্র, নাগাল্যান্ড এবং জম্মু-কাশ্মীরের ট্যাবলো। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং প্রাচীন সংস্কৃতির মেলবন্ধন ছিল তামিলনাড়ুর থিম। তবে এবারের কুচকাওয়াজে অন্যতম আকর্ষণ ছিল বলিউডের ট্যাবলো। এই প্রথমবার কর্তব্যপথে হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের ট্যাবলো প্রদর্শিত হলো।