দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ১১ মাস জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তির পথে সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুদীপ্ত সেন। বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর বিরুদ্ধে থাকা বাকি মামলাগুলিতেও জামিন মঞ্জুর করেছে। ফলে আইনি দিক থেকে তাঁর জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার আর কোনও বাধা রইল না।
বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা বারাসাতের দুটি মামলায় জামিন দেয়। এর আগেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দায়ের করা ৭৬টি মামলায় জামিন পেয়েছিলেন সুদীপ্ত। বর্তমানে তিনি প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি রয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কিছু শর্ত সাপেক্ষে তাঁর জামিন মঞ্জুর হয়েছে। সব ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবারই জেল থেকে মুক্তি পেতে পারেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। সেই সময় সহযোগী দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে কাশ্মীরের সোনমার্গে গা ঢাকা দেন সুদীপ্ত সেন। পরে ওই বছরই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। তারপর থেকেই জেলবন্দি ছিলেন তাঁরা। যদিও ২০২৩ সালে কয়েক ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন দেবযানী।
এই কেলেঙ্কারির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় অসংখ্য অভিযোগ দায়ের হয়। পরে তদন্তভার নেয় সিবিআই। পাশাপাশি ইডি ও সেবিও সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করে।
এদিকে ভোটের ঠিক আগে সুদীপ্ত সেনের সম্ভাব্য মুক্তি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ বলেন, “কারও জামিন হওয়া বা না-হওয়া সম্পূর্ণ আইনি বিষয়। আদালত তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেছে। তাই এ নিয়ে আলাদা করে মন্তব্য করার কিছু নেই।”
ভোটের আবহে সারদা কাণ্ডের মূল অভিযুক্তের মুক্তি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।