শান্তনু ঠাকুরের মন্তব্যের প্রতিবাদকে ঘিরে বুধবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ঠাকুরবাড়ি এলাকা। অল ইন্ডিয়া মতুয়া সংঘের ডাকে বিক্ষোভ চলাকালীন মমতাবালা ঠাকুরের সমর্থকদের উপর বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী।
অল ইন্ডিয়া মতুয়া সংঘের দাবি, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলেন। সেই সময় হঠাৎ করেই তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, একেবারে মাটিতে ফেলে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজনকে মারধর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর বলেন, “মতুয়াদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। ক্যাম্প করে মতুয়া কার্ড, ধর্মীয় শংসাপত্র জোগাড় করার পরেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কেন এই নাম বাদ গেল, সেই প্রশ্ন তুলতেই মারধর করা হল।” তিনি এই ঘটনার বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাবেন বলেও জানান।
প্রসঙ্গত, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর মতুয়াগড় এলাকায় সবচেয়ে বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যার জেরে নতুন করে উদ্বাস্তু হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন। এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ বাড়ছিল।
এই আবহেই বনগাঁর বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর সম্প্রতি মন্তব্য করেন, “ভোটার তালিকা থেকে যদি ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমের নাম বাদ যায়, সেখানে আমাদের ১ লক্ষ লোকের নাম বাদ গেলে সেটুকু সহ্য করা উচিত।” তিনি আরও বলেন, “ওদেশ থেকে এরা সকলে প্রাণ হাতে করে এসেছিল।” বিজেপি নেতার এই মন্তব্যে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়ায়।
এরই প্রতিবাদে বুধবার শান্তনু ঠাকুরের বাড়ির সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভের ডাক দেয় অল ইন্ডিয়া মতুয়া সংঘ। সেই কর্মসূচিকে ঘিরেই উত্তেজনা ছড়ায় এবং হামলার অভিযোগ ওঠে। যদিও ঘটনার সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর থেকে ঠাকুরবাড়ি এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।