তিনবারের মন্ত্রী, দীর্ঘদিনের বিধায়ক—তা সত্ত্বেও বাংলার নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী তথা মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখ শশী পাঁজা-কে এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন)-এর শুনানিতে ডেকে পাঠাল নির্বাচন কমিশন। সেই নোটিস মেনে রবিবার দুপুরে কলকাতার গিরিশ পার্কের শুনানিকেন্দ্রে হাজিরা দেন মন্ত্রী। সঙ্গে নিয়ে যান সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি।
কিন্তু শুনানি শেষে বেরিয়েই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন শশী পাঁজা। সরাসরি ‘হয়রানি’র অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “আমার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে। তা সত্ত্বেও বলা হচ্ছে নাম নেই! সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পর এখন পাসপোর্ট চাইছে। আমি পাসপোর্ট দেখাব না—এটাই আমার প্রতিবাদ।”
কমিশনকে কার্যত চ্যালেঞ্জের সুরে শশী পাঁজার বক্তব্য,“তিনবারের মন্ত্রী, বিধায়কের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায় কি না—দেখুক নির্বাচন কমিশন। আমি এত বছর ধরে ভোটে লড়েছি, ভোট দিয়েছি। এসব সম্পূর্ণ অযথা হয়রানি।”
অভিযোগ, শুনানির নোটিস পাঠানোর পর অত্যন্ত স্বল্প সময় দেওয়া হয়েছিল হাজিরার জন্য। রবিবার দুপুর দু’টোর মধ্যে তাঁকে শুনানিকেন্দ্রে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় শশী পাঁজার নাম ছিল এবং এনুমারেশন ফর্মেও তিনি যাবতীয় প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়েছেন।
শশী পাঁজার দাবি, এটি কোনও “লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি” নয়, বরং কমিশনের অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনের প্রযুক্তিগত গলদের কারণেই ২০০২ সালের তালিকায় তাঁর নাম দেখা যাচ্ছে না। সেই কারণেই নিয়ম মেনে নির্ধারিত সময় শুনানিতে হাজির হন তিনি।
তবে শুনানিকেন্দ্রে কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা নথি নিয়ে অযথা হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ তোলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন,
“যে ১১টি নথি কমিশন গ্রহণ করছে, সেগুলি সবার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। আমার পাসপোর্ট আছে, কিন্তু অনেক সাধারণ মানুষের নেই। এই নিয়মের বিরুদ্ধেই আমার প্রতিবাদ।”
পাশাপাশি, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় সাধারণ মানুষকেও ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শশী পাঁজা। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদের অযথা হয়রানির মধ্যে ফেলা হচ্ছে।
এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।