প্রথম পাতা খবর চোরবাগান দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা, ২০২৭-এর দুর্গাপুজোর আগেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা, বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

চোরবাগান দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা, ২০২৭-এর দুর্গাপুজোর আগেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা, বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

10 views
A+A-
Reset

প্রথম সপ্তমীর রাতে চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্টের দুর্ঘটনা এখনও দাগ কেটে রয়েছে বহু মানুষের মনে। আগামী বছরে যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাতে শ্যামপুরের বেলপুকুর কলেজের মাঠে বিজয় সম্মেলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি জানান, ২০২৭ সালের দুর্গাপুজোর অনেক আগে থেকেই এ বিষয়ে প্রস্তুতি শুরু করবে রাজ্য সরকার।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, চোরবাগানের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েছে রাজ্য। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করার জন্য আগাম পদক্ষেপ করা হবে। দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আনন্দের মধ্যে বেদনা হয়েছে। চোরবাগানে মানুষের ভুলে বেশ কয়েকজনকে হারাতে হয়েছে। তার তদন্ত হবে। ২৫ জনকে সুস্থ করা হয়েছে। মৃত বাংলার ১৮ জনের মধ্যে ১২ জনের বাড়ি গিয়েছি। ২৩-২৪ তারিখের মধ্যে ৬ জনের বাড়ি যাব। মৃত্যুর কোনও ক্ষতিপূরণ হয় না। তবুও সরকারের কিছু দায়িত্ব থাকে। সে দায়িত্ব পালন করেছি। এই ঘটনা যাতে আর না ঘটে এই অঙ্গীকার নিতে চাই।”

শ্যামপুরের অতীত প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলকে নিশানা

বিজয় সম্মেলনীর মঞ্চ থেকে চোরবাগান দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলার পাশাপাশি শ্যামপুরের কয়েক বছর আগের অশান্তির প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “যারা মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তুলেছিল তাদের প্রিজন ভ্যানে উঠতে হচ্ছে। যাঁরা দুর্গাঠাকুর যারা ভেঙেছিলেন তাদেরকে মা দুর্গা ক্ষমতার অলিন্দ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।”

ডিসেম্বরের মধ্যে ১০০ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্র

শ্যামপুরের উন্নয়নের প্রসঙ্গেও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এলাকায় বর্তমানে ১৪ শয্যার একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেটিকে ১০০ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে পরিষেবার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি।

এলাকার নদীবাঁধের ভাঙন রোধের বিষয়টিও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শ্যামপুর ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকা হওয়ায় নদীবাঁধের ভাঙন ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি, এলাকায় থাকা কাঠের সেতুগুলিকে পাকা করার কথা বলেন তিনি। বোয়ালিয়ায় একটি বড় সেতু তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান। শ্যামপুরে পর্যটনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

আগামী বছরের ৮ মে-র মধ্যে এক লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি

রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগের প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী বছরের ৮ মে-র মধ্যে এক লক্ষ যুবক-যুবতীর চাকরি হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তাঁর দাবি, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে।

পাশাপাশি, বিকশিত ভারত ভিবি জি রাম জি প্রকল্পে পঞ্চায়েতগুলিকে আরও বেশি কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিটি পঞ্চায়েতে ৫০ লক্ষ টাকার কাজ করুন। এলাকাকে সাজিয়ে তুলুন। ১২৫ দিনের কাজে ৩৭০ রকমের কাজ করা যায়। প্রচুর কাজ করুন।”

আবাস যোজনার পরবর্তী ধাপে ২৫ লক্ষ বাড়ি তৈরি করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিজয়া সম্মেলনীর মঞ্চ থেকে একদিকে চোরবাগান দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আগাম প্রস্তুতির আশ্বাস, অন্যদিকে শ্যামপুরের স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, পর্যটন ও কর্মসংস্থান নিয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতি উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.