শিলিগুড়ি ও গ্যাংটক: রাতভর দফায় দফায় কেঁপে উঠল হিমালয়। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার দুপুর— মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১২ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে সিকিমে। কম্পন থেকে রেহাই পায়নি উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িও। পাহাড়ি রাজ্যে বারবার কম্পনের জেরে রাতভর আতঙ্কে রাস্তায় রাত কাটিয়েছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
মাঝরাতে প্রথম ধাক্কা, উৎস পশ্চিম সিকিম
ভূমিকম্পের প্রথম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী ধাক্কাটি অনুভূত হয় শুক্রবার রাত ১টা ০৯ মিনিটে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.৫। পশ্চিম সিকিমের গ্যালশিং এলাকা থেকে ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই কম্পনের উৎসস্থল। এর প্রভাবে কেঁপে ওঠে সিকিম-সহ অসম, নেপাল ও চিনের একাংশ। আতঙ্কে এ রাজ্যের সমতলেও ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বহু মানুষ।
মঙ্গন ও নামচিতে বারবার ঝটকা
সিকিম আবহাওয়া দপ্তরের ডিরেক্টর ডক্টর গোপীনাথ রাহা জানিয়েছেন, প্রথম তীব্র কম্পনের পর থেকে আরও ১১ বার মৃদু ভূমিকম্প হয়েছে। রাত ১টা ১৫ মিনিট থেকে ভোর ৫টা ২৯ মিনিটের মধ্যে গ্যাংটক, মঙ্গন ও নামচি এলাকা বারবার কেঁপে ওঠে। বিশেষ করে মঙ্গনের ৫ কিলোমিটার গভীরে একাধিকবার কম্পনের উৎসস্থল ছিল। রিখটার স্কেলে এই পরবর্তী কম্পনগুলির মাত্রা ২.৪ থেকে ৪-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা
বর্তমানে সিকিমে পর্যটনের ভরা মরসুম। অগুনতি পর্যটক পাহাড়ে আটকে রয়েছেন। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজ়ম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল জানান, “উৎকণ্ঠা নিয়ে বহু পর্যটক যোগাযোগ করছেন। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সিকিম প্রশাসন অত্যন্ত তৎপর রয়েছে এবং আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।” এখনও পর্যন্ত কোনও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।