এসআইআর শুনানিতে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্নদের ডেকে হেনস্তার অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার বড়জোড়ার সভা থেকে এই ইস্যুতে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশ্ন তুললেন, “৬০-৭০ বছরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের কেন ডাকা হচ্ছে? পুরুলিয়ায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। ওরা বাবা-মাকে সম্মান করে না।”
রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) পর্ব চলছে। বহু বয়স্ক নাগরিক, অসুস্থ ব্যক্তি ও দিব্যাঙ্গকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, অসুস্থ হচ্ছেন, আতঙ্কে পড়ছেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা। তৃণমূলের অভিযোগ, এটি অযৌক্তিক এবং মানবিকতার পরিপন্থী। এই প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রীর সতর্কবার্তা, “একজন বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলেও দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করা হবে।”
মমতা দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৫৮ থেকে ৬০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। সোমবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন পুরুলিয়ার দুর্জন মাঝি। তাঁর বয়স ছিল ৮২। শুনানিতে সময়মতো পৌঁছতে পারবেন কি না—এই দুশ্চিন্তা এবং স্ট্রেসে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। সোমবার ব্লক অফিসে যাওয়ার আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। ঘণ্টা তিনেক পরে বাড়ির কাছের রেললাইন থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
দুর্জন মাঝির পরিবারের অভিযোগ—এই মৃত্যু সরাসরি এসআইআর চাপে মানসিক যন্ত্রণার ফল। মঙ্গলবার পরিবারের তরফে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের নিশানায় রয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল।
তৃণমূলের প্রশ্ন,
- কেন অসুস্থ ও বয়স্কদের বাড়িতে গিয়ে যাচাই করা হচ্ছে না?
- কেন বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্নদের লাইনে দাঁড় করানো হচ্ছে?
- নির্বাচন কমিশন কি ইচ্ছাকৃতভাবে ভয় ও চাপ তৈরি করছে?
কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিরোধীরা পাল্টা দাবি করছে, তৃণমূল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। সব মিলিয়ে এসআইআর শুনানিকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা, মানবিকতার প্রশ্ন এবং মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি আরও তীব্র হচ্ছে।