ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) পর্বে রাজ্যের বাইরে থাকা পরিযায়ী শ্রমিক ও কর্মসূত্রে অন্যত্র অবস্থানকারী ভোটারদের জন্য বড়সড় স্বস্তির পরিকল্পনা নিল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর-এর দ্বিতীয় ধাপে এই শ্রেণির ভোটারদের আর সরাসরি শুনানিকেন্দ্রে হাজির হতে হবে না।
কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যের বাইরে থাকা কোনও ব্যক্তিকে শুনানির নোটিস পাঠানো হলেও তাঁকে নথিপত্র নিয়ে সশরীরে হাজির হতে হবে না। তার বদলে একটি বিশেষ অনলাইন পোর্টাল চালু করা হবে। সেই পোর্টালে লগ ইন করে প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করলেই সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। বিকল্প হিসেবে সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)-এর হোয়াট্সঅ্যাপ নম্বরে নথি পাঠালেও তা গ্রহণ করা হবে।
কমিশন সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, অনলাইনে বা হোয়াট্সঅ্যাপে পাঠানো নথি যাচাই করার পরেই পরবর্তী ধাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম থাকবে কি না, তা নির্ধারণ করবে কমিশন।
এছাড়া, রাজ্যের বাইরে থাকা কোনও ভোটার অনলাইনে নাম তোলার আবেদন করলেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। সে ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি বর্তমানে কোথায় রয়েছেন এবং কী কাজ করেন, সেই তথ্যও দিতে হতে পারে। কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, কোন কোন ভোটারকে শুনানিকেন্দ্রে যেতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত বিএলও-রা নিজেরা নিতে পারবেন না। কোনও বিএলও যদি ভোটারদের জোর করে শুনানিকেন্দ্রে যেতে বাধ্য করেন, অথবা বলেন যে এ সংক্রান্ত কোনও লিখিত নির্দেশ নেই, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে সংশ্লিষ্ট বিএলও-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হতে পারে বলেও কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত।
উল্লেখ্য, এর আগেই এসআইআর শুনানিপর্বে বিদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। পড়াশোনা বা কর্মসূত্রে যাঁরা বিদেশে রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নোটিস এলে সংশ্লিষ্ট দেশের ভারতীয় দূতাবাসে গিয়ে পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত নথি জমা দিলেই সমস্যার সমাধান হবে বলে জানানো হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, এসআইআর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও নাগরিক-বান্ধব করতে এবার প্রযুক্তিনির্ভর পথেই এগোতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিক ও রাজ্যের বাইরে থাকা ভোটারদের ভোগান্তি কমানোই এই নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।