প্রথম পাতা খবর ৩১ আসনে জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বেশি বিচারাধীন ভোটার, সুপ্রিম কোর্টে দাবি তৃণমূলের, কী বলল আদালত

৩১ আসনে জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বেশি বিচারাধীন ভোটার, সুপ্রিম কোর্টে দাবি তৃণমূলের, কী বলল আদালত

10 views
A+A-
Reset

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া ঘিরে ফের সরব হল All India Trinamool Congress। সোমবার Supreme Court of India-তে হওয়া শুনানিতে তৃণমূলের দাবি, এমন অন্তত ৩১টি বিধানসভা আসন রয়েছে যেখানে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার সংখ্যার তুলনায় জয়ের ব্যবধান অত্যন্ত কম। দলের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ায় নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত হয়েছে।

সোমবার ছিল ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পরে এসআইআর মামলার প্রথম শুনানি। আদালতে তৃণমূলের পক্ষের আইনজীবী Kalyan Banerjee বলেন, “আমি ৩১টি আসনের উদাহরণ দেখাতে পারি, যেখানে নাম বাদের তুলনায় জয়ের ব্যবধান খুবই কম। তৃণমূলের এক প্রার্থী ৮৬২ ভোটে হেরেছেন। আর সেখানে পাঁচ হাজারেরও বেশি ভোটার এখনও বিচারাধীন।”

তৃণমূলের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ২৭ লক্ষের বেশি নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় চলে গিয়েছিল এবং সেই অবস্থাতেই বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। দলের বক্তব্য, বহু ভোটারের আবেদন এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, যা নির্বাচনের ফলাফলে বাস্তবিক প্রভাব ফেলেছে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে আরও বলেন, “এ বারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের মোট ব্যবধানের তুলনায় বিচারাধীন আবেদন বেশি।”

উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছে বা বাদ পড়েছে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারেন। নথি যাচাইয়ের পরে সেই ট্রাইবুনালই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি Sanjib Banerjee-এর নেতৃত্বে প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে সেই ট্রাইবুনাল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। যদিও কয়েক জন প্রাক্তন বিচারপতি পরে সরে দাঁড়িয়েছেন বলেও আদালতে উল্লেখ করেন কল্যাণ।

সেই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি Surya Kant বলেন, “ওই বিষয়ে আমরা কী করতে পারি? কাউকে তো বাধ্য করতে পারি না আপনি কাজ করুন।”

এ দিকে তৃণমূলের আবেদনের প্রসঙ্গে বিচারপতি Joymalya Bagchi বলেন, “নির্বাচনের ফলাফলে বাস্তবিক ভাবে প্রভাব পড়েছে এমন কিছু বলতে চাইলে অতিরিক্ত আবেদন করে মামলা করুন।”

প্রধান বিচারপতি জানান, আদালত আগে কিছু তথ্য সংগ্রহ করবে। তৃণমূলের আর এক আইনজীবী Menaka Guruswamy আদালতে দাবি করেন, এই মামলাগুলির নিষ্পত্তি হতে চার বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে এখনই কোনও নির্দেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বাগচী বলেন, “বহু আবেদন এখনও বিচারাধীন। সেই কারণে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছি এবং জানতে চাইছি, কত সময়ের মধ্যে এই বিষয়গুলির নিষ্পত্তি হবে।”

নির্বাচন কমিশনের পক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান, ভোট ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এখন নির্বাচন পিটিশন দায়ের করাই একমাত্র পথ। সেই যুক্তির ভিত্তিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নির্বাচন পিটিশন করতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। তবে শুনানির সময়ে এসআইআর প্রক্রিয়াকেও বিবেচনায় রাখার আর্জি জানান তিনি। যদিও এই মুহূর্তে সে বিষয়ে কোনও নির্দেশ দেয়নি শীর্ষ আদালত।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.