নিজস্ব প্রতিবেদন, দিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে পশ্চিমবঙ্গ সংক্রান্ত এসআইআর (SIR) মামলার শুনানি ঘিরে বুধবার নজিরবিহীন ভিড় লক্ষ্য করা গেল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মামলাটিকে কেন্দ্র করে ভার্চুয়াল শুনানিতে যোগ দেন এক হাজারেরও বেশি ব্যক্তি, যা নির্ধারিত সীমাকেও ছাড়িয়ে যায়। এদিন শুনানিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী নিজের বক্তব্য পেশ করার জন্য ৫ মিনিট সময় চাইলে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় তাঁকে ১৫ মিনিট সময় দেন।
বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার: শুনানি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি:
- ৫৮ লক্ষ নাম গায়েব: ইআরও-র (ERO) ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যাঁদের মধ্যে অনেকেই জীবিত।
- পর্যবেক্ষক নিয়ে প্রশ্ন: রোল পর্যবেক্ষকদের বেছে বেছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
- মৃত্যুর অভিযোগ: ভোটার তালিকা সংশোধন ও আধার কার্ড সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দুশ্চিন্তায় রাজ্যে ১০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন মমতা।
আদালতে সওয়াল-জবাব: মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “আদালত আধার কার্ড গ্রহণের কথা বললেও কেন তা নেওয়া হচ্ছে না? কেন শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গকেই টার্গেট করা হচ্ছে? অসমে কেন একই পদক্ষেপ করা হলো না?” তিনি অভিযোগ করেন যে আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়েছে। সওয়াল শেষে তিনি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ছবি দেখানোর অনুমতিও চান।
প্রধান বিচারপতির অবস্থান: মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ধৈর্য সহকারে শোনার পর প্রধান বিচারপতি জানান, বিষয়টি নিয়ে আদালত গুরুত্ব সহকারে বিচার করবে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবে। যদিও তালিকায় মামলাটি ২১ এবং ৩৭ নম্বরে ছিল, কিন্তু এর গুরুত্ব বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট যথেষ্ট সময় বরাদ্দ করে।
রাজ্য সরকার যেন বাংলা ভাষা বোঝে, এমন অফিসারদের তালিকা দেয়। নির্বাচন কমিশন যেন নামের ছোট ভুলে কাউকে বাদ না-দেয় শুনানির নোটিস দেওয়ার সময় আরও সতর্ক হতে হবে। সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হব।