নয়াদিল্লি: আইপ্যাক (I-PAC) সংক্রান্ত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র দায়ের করা মামলার শুনানি ফের পিছিয়ে গেল। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে ইডি-র আবেদনের ভিত্তিতে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে শীর্ষ আদালত।
মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই ইডি-র তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, সোমবার রাজ্য সরকার যে হলফনামা জমা দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য সময়ের প্রয়োজন। ইডি-ও পাল্টা হলফনামা দিতে চায় বলে আদালতে আবেদন করেন তিনি। রাজ্য এই আবেদনে সম্মতি দেওয়ার পরই আদালত শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
রাজ্যের যুক্তি ও সংবিধানের লড়াই: সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় রাজ্য সরকার সাফ জানিয়েছে, এই মামলা দায়ের করার কোনো মৌলিক অধিকার ইডি-র নেই। রাজ্যের দাবি, আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দফতরে যেভাবে আগাম নোটিশ ছাড়াই তল্লাশি চালানো হয়েছে, তা সংবিধানের ২১ নম্বর ধারায় বর্ণিত ‘জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার’-এর পরিপন্থী। উল্লেখ্য, ইডি পাল্টা অভিযোগ তুলেছিল যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তে বাধা দিয়েছেন এবং ল্যাপটপ-নথিপত্র সরিয়ে ফেলেছেন।
প্রেক্ষাপট: গত ৮ জানুয়ারি কয়লা পাচার মামলার সূত্রে কলকাতায় আইপ্যাকের দফতর ও প্রতীকের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল ইডি। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় সংস্থা। যদিও কলকাতা পুলিশ ইডি-র বিরুদ্ধে তিনটি এফআইআর দায়ের করেছিল, যার ওপর সুপ্রিম কোর্ট আগেই স্থগিতাদেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ মেনে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও সংরক্ষণের প্রক্রিয়া চলছে। এখন ১০ ফেব্রুয়ারির শুনানিতে ইডি-র পাল্টা হলফনামা এই মামলার মোড় কোন দিকে ঘোরায়, সেটাই দেখার।