নিজস্ব প্রতিবেদন, দিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) মামলার শুনানিতে সোমবার নজিরবিহীনভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠল সুপ্রিম কোর্ট। একদিকে এনুমারেশন ফর্ম পোড়ানোর ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় রাজ্যের ডিজি-কে (DG) শোকজ করলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের ব্যবহৃত সফটওয়্যার টুলের যান্ত্রিক ভুল এবং বাস্তব জ্ঞানহীন নোটিস পাঠানো নিয়ে কমিশনকেও কড়া ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল।
রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে শোকজ:
রাজ্যে ভোটারদের এনুমারেশন ফর্ম পুড়িয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর ঘটনায় কেন এখনও কোনো এফআইআর (FIR) হয়নি, তা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ দেশের শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কেন এত প্রশ্ন উঠছে? এরপরই রাজ্যের পুলিশের ডিজি-কে শোকজ করে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।
কমিশনের ‘যান্ত্রিক’ ভুল ও বিচারপতিদের ভর্ৎসনা:
এদিন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ ছিল অত্যন্ত কড়া। কমিশন দাবি করেছিল, বয়সের বড় পার্থক্যের ভিত্তিতে জালিয়াতি ধরতে তারা বিশেষ সফটওয়্যার টুল ব্যবহার করছে। এর জবাবে বিচারপতি বাগচী বলেন, “আপনারা বলছেন ৫০ বছরের ব্যবধান মানে দাদু-নাতির সম্পর্ক। কিন্তু বাস্তবে ২০ বছর বয়সেও বিয়ে হয়। আপনাদের সফটওয়্যার বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মেলেনি।” এমনকি নামে সামান্য পার্থক্যের জন্য (যেমন মধ্যনামে ‘কুমার’ থাকা বা না থাকা) কেন সাধারণ মানুষকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে, তা নিয়ে কমিশনকে তুলোধনা করেন বিচারপতিরা।
৮৫০৫ কর্মীর নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ:
রাজ্যের পক্ষ থেকে ৮,৫০৫ জন গ্রুপ-বি আধিকারিক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে এই আধিকারিকদের ইআরও (ERO)-র কাছে রিপোর্ট করতে হবে। কমিশন এই কর্মীদের প্রশিক্ষণ ছাড়া নিতে আপত্তি জানালেও আদালত স্পষ্ট করে দেয়, এই কর্মীরা শুধুমাত্র সাহায্য করবেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও-রাই। কাজের সুবিধার্থে ১৪ ফেব্রুয়ারির পরও বাড়তি এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।
সংবিধানের প্রতি আস্থা:
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত উপস্থিতি ও সওয়াল নিয়ে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার আপত্তির জবাবে প্রধান বিচারপতি সাফ জানিয়ে দেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সওয়াল আসলে সংবিধানের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রকাশ। এই বিষয়টিকে রাজনীতিকরণ করবেন না।”
সর্বোপরি, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সমস্ত রাজ্যকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বাধা বরদাস্ত করা হবে না। আইনি মহলের মতে, সোমবারের শুনানি নবান্ন এবং কমিশন—উভয় পক্ষকেই সমান চাপে রেখেছে।