মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী এবং পাঁচ মন্ত্রীর শপথগ্রহণের পর থেকেই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, আগামী সোমবারই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে।
রাজ্য রাজনীতির অন্দরের খবর, নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ৩৩ জন সদস্য থাকতে পারেন। নতুন মুখ, অভিজ্ঞ মন্ত্রী এবং জেলার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গড়ে তুলতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামের পাশাপাশি দপ্তর বণ্টন নিয়েও কৌতূহল তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা ছিল, প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যালকে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী করা হতে পারে। এমনকি নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সূত্রের খবর, অর্থ দপ্তর নিজের হাতেই রাখতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুধু অর্থ দপ্তরই নয়, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের দায়িত্বও মুখ্যমন্ত্রী নিজের কাছে রাখতে পারেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের আর্থিক পুনরুদ্ধার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই কারণেই অর্থ দপ্তরের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে আগ্রহী তিনি।
বিজেপি নেতৃত্বের মতে, দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, বিপুল ঋণের বোঝা এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির পূর্ণ সুবিধা গ্রহণ না করার কারণে রাজ্যের রাজস্ব ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বের করে এনে রাজ্যের অর্থনীতিকে নতুন গতি দেওয়াকে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্রের দাবি, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়ন, সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যেই অর্থ দপ্তরের দায়িত্ব নিজের হাতে রাখতে চান শুভেন্দু। রাজ্যের উন্নয়নকে শুধু শহরকেন্দ্রিক না রেখে গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
শিল্পায়নের অনুকূল পরিবেশ তৈরি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিকল্প অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েই নির্বাচনে নেমেছিল বিজেপি। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্রুত পদক্ষেপ করতে চাইছে নতুন প্রশাসন। সব মিলিয়ে সোমবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুধু নতুন মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ নয়, বরং আগামী পাঁচ বছরের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখারও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।