চলচ্চিত্র জগতে নক্ষত্রপতন, প্রয়াত কিংবদন্তি পরিচালক তরুণ মজুমদার সোমবার সকাল সোয়া এগারোটা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি৷ গত ১৪ জুন থেকে কিডনি ও ফুসফুসের সমস্যা নিয়ে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। অবশেষে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বর্ষীয়ান পরিচালক। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। দীর্ঘ দু-দশক ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷
শোকবার্তায় মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘বিশিষ্ট চিত্রপরিচালক তরুণ মজুমদারের প্রয়াণে আমি গভীর শোকপ্রকাশ করছি। তিনি আজ কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ভিন্নধারার রুচিসম্মত সামাজিক চলচ্চিত্র নির্মাণে তরুণ মজুমদার উজ্জ্বল নিদর্শন রেখে গিয়েছেন। তিনি পদ্মশ্রী, জাতীয় পুরস্কার, বিএফজেএ পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। তাঁর প্রয়াণ চলচ্চিত্র জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমি তরুণ মজুমদারের পরিবার-পরিজন ও অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’
রবিরার মধ্যরাত থেকেই তাঁর অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে বলে শোনা গিয়েছিল। জ্ঞানও ছিল না তাঁর। ডায়ালিসিসের দরকারও ছিল। কিন্তু শারীরিক অবস্থার কারণে ডায়ালিসিস নেওয়ার অবস্থায় তিনি ছিলেন না বলেই জানা গিয়েছে। পুরোপুরি ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল তাঁকে। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বর্ষীয়ান পরিচালক।
মধ্যবিত্ত বাঙালির জীবনের টুকরো মুহূর্তগুলিকে সিনেমার পর্দায় তুলে ধরেছিলেন ‘বালিকা বধূ’, ‘দাদার কীর্তি’, ‘আলো’, ‘চাঁদের বাড়ি’র মতো সিনেমার মাধ্যমে। বড়পর্দায় পারিবারিক কাহিনি ফুটিয়ে তুলতে শুরু করেন তরুণ মজুমদার। একাধিক জাতীয় পুরস্কার রয়েছে তরুণ মজুমদারে ঝুলিতে। পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।
স্বতন্ত্র ঘারানা তৈরি করেছিলেন তরুণ মজুমদার
সত্যজিৎ রায়,ঋত্বিক ঘটক,মৃণাল সেন, তপন সিংহের ছায়া এড়িয়ে ভিন্ন ধারার ছবি করতেন তরুণ মজুমদার। সে ছবিতে বাঙালিত্বের ছাপ যেমন থাকত, তেমনি থাকত সামাজিক বার্তাও।তিনি বরাবরই ছবি করছেন আমজনতার কথা মাথায় রেখে।তাই একেবারে বাজার চলতি বাণিজ্যিক ধারার ছবি না হলেও হলে বসিয়ে তিনি বাঙালিকে কাঁদাতে পারতেন আবার ছবি শেষে দর্শক যাতে একটা ‘হ্যাপি এন্ডিং’ ব্যাপার নিয়ে হলে থেকে বেরোতে পারতেন। ফলে তাঁর ছবি কখনো বক্স অফিসে মাছি তাড়াইনি।। অবশ্য তরুণবাবু নিজেও বলতেন, ‘‘ছবি তৈরির আগে বাজেট নিয়ে ভাবতে হবে। কী ভাবে ছবির টাকা উঠবে তার প্ল্যান করতে হবে।’’ এ সব সত্ত্বেও তাঁর ছবিকে সস্তা বাজারি ছবি বলে দেগে দেওয়া যায়নি।বাণিজ্যিক এবং শিল্পধর্মী সিনেমার মধ্যে অদ্ভউত একটা ভারসাম্য রেখে ছবি বানাতেন তরুণ মজুমদার।