এসআইআর শুনানি প্রক্রিয়ায় বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার গভীর চক্রান্ত চলছে—এমন অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের দাবি, নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে এই “ষড়যন্ত্র” চালাচ্ছে বিজেপি। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নতুন রণকৌশল ঘোষণা করেছে শাসকদল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, সোমবার থেকেই প্রতিটি এসআইআর শুনানি কেন্দ্রের বাইরে তৃণমূল শিবির গড়ে তুলতে হবে এবং ভোটারদের সম্পূর্ণ সহায়তা করতে হবে।
এদিকে রানিবাঁধ বিধানসভায় এক বিএলও-র আত্মহত্যার ঘটনাও উত্তেজনা বাড়িয়েছে। সুইসাইড নোটে তিনি মানসিক চাপে থাকার কথা উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে। এই প্রসঙ্গে অভিষেকের তির, “৫০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বাংলা এসব ক্ষমা করবে না।”
রবিবার ভার্চুয়াল বৈঠকে দলীয় জনপ্রতিনিধি, পদাধিকারী ও বুথ লেভেল এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি সহ লক্ষাধিক কর্মী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দেন অভিষেক। নির্দেশ অনুযায়ী,
- প্রতিটি শুনানি কেন্দ্রের বাইরে তৃণমূলের সহায়তা শিবির,
- শুনানির সময় বিএলএ-২ উপস্থিতি নিশ্চিত,
- ভোটারের নথি সংগ্রহে পূর্ণ সহায়তা,
- বিএলওদের পাশে “ছায়াসঙ্গী” হিসেবে দলীয় কর্মী।
অভিষেক অভিযোগ করেন, অশীতিপর, অসুস্থ মানুষদের টেনে শুনানিতে আনা হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, “প্রবীণদের বাড়িতে গিয়ে কমিশন ভোট গ্রহণ করে। তাহলে এসআইআর শুনানিতে সেই নিয়ম প্রযোজ্য নয় কেন?” এই দাবিতে কমিশনের দপ্তরে যাবে তৃণমূল প্রতিনিধি দল।
পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কমিশন তাঁদের টিএ দিচ্ছে না। তাহলে রুটিরুজি নষ্ট করে তাঁরা শুনানিতে আসবেন কীভাবে? আদালতে যখন ভার্চুয়াল শুনানি হয়, তাহলে এখানে নয় কেন?” ফলে ভার্চুয়াল শুনানির দাবিও তুলেছে দল।
তৃণমূল নেতৃত্বের ভাষায়, এটি এক যুদ্ধের লড়াই। সুব্রত বক্সির মন্তব্য, “যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। সজাগ থাকতে হবে, মোকাবিলা করতে হবে।” অভিষেকের বার্তা আরও কড়া—“এক ইঞ্চি জমি ছাড়া চলবে না।” তিনি জানান, এই পর্বে বিএলএ-২ দের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসআইআর প্রক্রিয়ায় কে কতটা দায়িত্ব পালন করছেন, তার পর্যালোচনা করা হবে দলীয়স্তরে।
এবং শেষ বক্তব্যে অভিষেক স্পষ্ট করে দেন, “মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক পদে না থাকলে ‘প্রাক্তন’ লেখা হয়। কিন্তু কর্মী কোনওদিন প্রাক্তন হন না।”