এসআইআর নিয়ে রাজ্যজুড়ে ক্রমবর্ধমান আতঙ্কে ফের একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা সামনে আসছে। কখনও পানিহাটিতে, কখনও ডানকুনিতে— আতঙ্কে আত্মহত্যার অভিযোগে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গঠন করলেন একটি বিশেষ কমিটি, যারা এসআইআর আতঙ্কে মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন।
শুক্রবার রাতে দলীয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার থেকেই শুরু হচ্ছে তৃণমূলের প্রতিনিধিদলের সফর। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ শনিবারই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে স্বজনহারা পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন, তাঁদের পাশে দাঁড়াবেন আর্থিক ও মানসিকভাবে।
পাঁচ পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন তৃণমূল নেতারা
শনিবার তৃণমূলের প্রতিনিধিরা মোট পাঁচটি স্বজনহারা পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন।
আগরপাড়া:
২৮ অক্টোবর নিজের বাড়িতে মৃত্যু হয় প্রৌঢ় প্রদীপ করের। তাঁর রেখে যাওয়া সুইসাইড নোটে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল— এসআইআর আতঙ্কে তিনি জীবনের ইতি টেনেছেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন সামিরুল ইসলাম ও পার্থ ভৌমিক।
প্রদীপ করের মৃত্যুর পর থেকেই রাজ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া, উঠেছে “জাস্টিস ফর প্রদীপ কর” স্লোগান।
টিটাগড়:
মৃত কাকলি সরকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কথা শশী পাঁজা ও তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের। বিকেল ৪টা নাগাদ তাঁদের পরিবারের সঙ্গে বৈঠক হবে।
ডানকুনি (হুগলি):
৩ নভেম্বর মৃত্যু হয় হাসিনা বেগমের (৬০)। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় তিনি চরম মানসিক চাপে ভুগছিলেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও সুদীপ রাহা।
শেওড়াফুলি (হুগলি):
এসআইআর আতঙ্কে আত্মহত্যা করা এক মহিলার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন জয়া দত্তসহ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
উলুবেড়িয়া (খলিসানি):
তিরিশের যুবক জাহির মাল আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন অরূপ চক্রবর্তী ও স্থানীয় তৃণমূল প্রতিনিধি দল।
বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের অভিযোগ
এসআইআর ইস্যু নিয়ে রাজ্যজুড়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।
দলীয় মুখপাত্ররা দাবি করেছেন, “এসআইআরকে হাতিয়ার করে বাংলায় ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন— “একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে রাস্তায় নামবে তৃণমূল।”
এর আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদ মিছিল করেছেন কলকাতা ও হাওড়ায়। এবার মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তৃণমূলের এই উদ্যোগকে দলের “মানবিক প্রতিক্রিয়া” বলেই দাবি করা হচ্ছে।
কমিশনের দপ্তর ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারিও বজায়
তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, “যদি একজনও বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায়, তাহলে দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর ঘেরাও করা হবে।”
অন্যদিকে, বিজেপি জানিয়েছে, তৃণমূল এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে।
তবে ক্রমবর্ধমান প্রাণহানির অভিযোগে রাজ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগের পরিবেশ। শাসকদলের মতে, এই মানবিক সঙ্কটেই তৃণমূলের এই বিশেষ কমিটির পদক্ষেপ “মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি”-র নিদর্শন।