নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই বাংলার কৃষি ও কৃষক সমাজকে নিজেদের দিকে টানতে বড়সড় কর্মসূচি নিল তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত হতে চলেছে বিশাল ‘কৃষক ও খেতমজুর সম্মেলন’। দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আয়োজিত এই সভায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১৫ হাজার প্রতিনিধি যোগ দেবেন বলে খবর।
বাজেট ঘোষণা ও রাজনৈতিক রণকৌশল: গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্য বাজেটে খেতমজুরদের জন্য বছরে ৪ হাজার টাকা (২ হাজার টাকার দুটি কিস্তি) আর্থিক অনুদানের কথা ঘোষণা করেছে সরকার। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, খেতমজুরদের সামাজিক নিরাপত্তা ও আর্থিক উন্নতির কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া এর আগে কেউ ভাবেনি। সম্মেলনের মাধ্যমে এই সাফল্যের বার্তা সরাসরি নিচুতলার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ঘাসফুল শিবিরের মূল লক্ষ্য।
তৃণমূলের কৃষক ও খেতমজুর সংগঠনের প্রধান পূর্ণেন্দু বসু জানান, “কৃষক ও খেতমজুররা আমাদের বন্ধু। তাঁদের সার্বিক উন্নতির জন্য সরকার ও দল সব সময় পাশে আছে।” তৃণমূলের রাজ্য সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “শস্যবিমা থেকে কৃষিসরঞ্জাম—বাংলার কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে রাজ্য সরকার যুগান্তকারী পদক্ষেপ করেছে। এবারের বাজেটে খেতমজুরদের জন্য যে সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তা নির্বাচনের আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
লক্ষ্য দিল্লি বনাম বাংলা: রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সম্মেলন থেকে একদিকে যেমন রাজ্যের কৃষি উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরা হবে, তেমনই বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে কৃষকদের ওপর কথিত অত্যাচারের অভিযোগ নিয়ে সরব হবেন তৃণমূল নেত্রী। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকার কীভাবে বাংলার কৃষকদের বঞ্চনা করছে, সেই ইস্যুকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণের ধার বাড়াবে জোড়াফুল শিবির।