প্রথম পাতা খবর ভোটারদের ‘অকারণে হয়রানি’ অভিযোগ, শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে একগুচ্ছ দাবি তৃণমূলের

ভোটারদের ‘অকারণে হয়রানি’ অভিযোগ, শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে একগুচ্ছ দাবি তৃণমূলের

68 views
A+A-
Reset

খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ছোটখাটো ত্রুটির জন্য ভোটারদের ডেকে হয়রানি করা হচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে একাধিক দাবি জানাল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল-এর সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, পুলক রায় এবং তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক, বাপি হালদার

বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, নামের বানানে সামান্য ভুল, বাংলা ও ইংরেজি নামের অমিল—এই ধরনের লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির জন্য ভোটারদের শুনানিতে ডাকার কোনও প্রয়োজন নেই। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন,
“এই ধরনের ছোটখাটো বিষয়ে ভোটারদের ডাকা মানে অকারণে হয়রানি করা। সেই দাবিটাই আমরা কমিশনের কাছে জানিয়েছি।”

তৃণমূলের আরও অভিযোগ, এনুমারেশন পর্বে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল—বাবা, মা, ঠাকুরদা-ঠাকুমা বা দাদু-দিদার নাম দিয়ে ভোটাররা ম্যাপিং করতে পারবেন। কিন্তু এখন সেই ক্ষেত্রেও একের পর এক নথি চাওয়া হচ্ছে। এতে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।
চন্দ্রিমার কথায়, “বারবার নিয়ম বদলানো হচ্ছে। এতে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত একটাই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া।”

এছাড়াও তৃণমূলের প্রতিনিধি দল আধার কার্ডকে ১২ নম্বর নথি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তুলেছে। তাঁদের বক্তব্য, কমিশন সর্বত্র ১১টি নথির কথা বলছে, কিন্তু আধারের কথা স্পষ্ট করছে না। ফলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
চন্দ্রিমা বলেন,
“বিহারের এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় সুপ্রিম কোর্ট আধার কার্ড গ্রহণ করার কথা বলেছিল। অথচ নির্বাচন কমিশন বলছে আধার নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। আমরা বলছি, কমিশন যে নথিগুলির কথা বলছে, তার কোনওটিই নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। তাছাড়া সুপ্রিম কোর্টও বলেছে—নির্বাচন কমিশনের নাগরিকত্ব নির্ধারণের অধিকার নেই।”

শুনানি প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলেছে তৃণমূল। প্রতিনিধি দলের বক্তব্য, দূরের ব্লক অফিস বা ডিএম অফিসে শুনানি হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। যাতায়াতে খরচ হবে, অসুবিধাও হবে।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন,
“গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস, পুরসভা অফিস কিংবা ওয়ার্ড স্তরে শুনানি করুন। এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা না থাকায় মানুষ আরও বিভ্রান্ত হচ্ছেন।”

সবচেয়ে কড়া বার্তায় তৃণমূল জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশন যদি জোর করে এক কোটির বেশি ভোটারের নাম বাতিলের পথে হাঁটে, তা হলে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনে নামবে তৃণমূল কংগ্রেস

এই বৈঠকের পর ভোটার তালিকা সংশোধন ও শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী অবস্থানের দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.