সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই ‘আচরণবিধি’ নিয়ে কেন্দ্রের জারি করা নির্দেশে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হল দেশে। সংসদে ‘জয় হিন্দ’ ও ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান না তোলার নির্দেশ দিয়ে রাজ্যসভার সচিবালয় যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল, তারই বিরুদ্ধেই সরব তৃণমূল কংগ্রেস। জানান দিয়েছে—কেন্দ্রের এই ‘ফতোয়া’ তারা মানবে না।
শনিবার তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ ব্রায়েন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কেন্দ্রের ফতোয়া আমরা মানব না। কেন্দ্র যদি নিষেধাজ্ঞা তুলে না-ও নেয়, তাহলেও আমরা সংসদের ভিতরে জয় হিন্দ ও বন্দে মাতরম ধ্বনি তুলবই।”
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতেই সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কড়া ভাষায় তিনি বলেন, “এটি সরাসরি বাংলা ও জাতীয় আত্মপরিচয়ের উপর আক্রমণ। বাংলার আইডেনটিটি নষ্ট করার চক্রান্ত। এটা বরদাস্ত করা হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতায় আছে বলে বিজেপি যা ইচ্ছা তাই করছে। ওরা ভুলে যাচ্ছে, বাংলা ভারতের বাইরে নয়। এসব আবেগের সঙ্গে সংঘাত বাঞ্ছনীয় নয়। যে টক্কর নিতে আসবে সে চুরমার হয়ে যাবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিবাদের পরেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা—বিতর্কিত অংশ বাদ দিয়ে কেন্দ্র হয়তো বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের কথা ভাবছে। শীতকালীন অধিবেশন শুরুর আগে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, অধিবেশনে ‘বন্দেমাতরম’ বা ‘জয়হিন্দ’ স্লোগান তোলা যাবে না।
২৪ নভেম্বর রাজ্যসভার সচিবালয় সাংসদদের জন্য একটি আচরণবিধি প্রকাশ করে। সেখানে ‘জয় হিন্দ’ বা ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি নিষিদ্ধ করা হয়। এই নির্দেশ সামনে আসতেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া।
তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুক বা না-করুক, তারা সংসদে ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘জয় হিন্দ’-ই বলবে। দলের মতে, জাতীয় স্লোগানকে নিষিদ্ধ করা সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের বিরোধী।
মমতার হুঁশিয়ারি, ডেরেকের বার্তা এবং কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তি—সব মিলিয়ে শীতকালীন অধিবেশন শুরুর আগেই দিল্লির রাজনীতিতে তুঙ্গে বিতর্ক। কেন্দ্র কি সত্যিই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করবে, নাকি তৃণমূল তাদের অবস্থানে অনড় থেকেই সংসদে স্লোগান তুলবে—এখন সেদিকেই নজর দেশের রাজনৈতিক মহলের।