পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এ বার মাত্র দুই দফায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করল তৃণমূল কংগ্রেস। আট দফা থেকে ভোট কমিয়ে দুই দফায় নিয়ে আসার মধ্য দিয়েই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল রয়েছে—এমনটাই প্রমাণ হয়ে গেল বলে মন্তব্য করেছে রাজ্যের শাসক দল।
রবিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। জানানো হয়েছে, ভোট হবে আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল।
এর পরেই প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, কমিশন এতদিন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল। অথচ তারাই এ বার আট দফা থেকে ভোট কমিয়ে দুই দফায় নিয়ে এসেছে। তাঁর কথায়, এর মধ্য দিয়েই প্রমাণ হয়ে গেল যে বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল।
চন্দ্রিমার অভিযোগ, অতীতে আট দফায় ভোট করিয়ে বিজেপির স্বার্থে একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। তাঁর দাবি, এ বারও সেই ধরনের কোনও পরিকল্পনা থাকলেও তা ব্যর্থ হবে।
তিনি আরও বলেন, এক দফার পরিবর্তে দুই দফায় ভোট করানোর পিছনে যদি কোনও বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকেও থাকে, তবুও তাতে কোনও লাভ হবে না।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, কমিশন এখন নিরপেক্ষতার কথা বললেও বাস্তবে তারা বিজেপির প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। গোটা এসআইআর প্রক্রিয়াতেও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
একই সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী সুরে কুণাল বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস এক দফা হোক বা দুই দফা—সব পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত। তাঁর দাবি, যত দফাতেই ভোট হোক, জয় তৃণমূল কংগ্রেসেরই হবে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আট দফার নির্বাচনে বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়েছিল। এ বার দুই দফার ভোটে সেই সংখ্যা আরও কমে ২৭-এ নেমে আসবে বলেও কটাক্ষ করেন কুণাল ঘোষ।