উত্তরবঙ্গে জঙ্গল সাফারির কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ডুয়ার্সের গভীর অরণ্য, হুডখোলা জিপ বা হাতির পিঠে চড়ে জঙ্গলে ঢোকার রোমাঞ্চ। এবার সেই রোমাঞ্চে যুক্ত হল এক নতুন মাত্রা—টয়ট্রেনে জঙ্গল সাফারি। দীর্ঘ ছয় বছর পর আবার চালু হল এই অভিনব পরিষেবা।
রবিবার থেকেই শুরু হয়েছে টয়ট্রেনে জঙ্গল সাফারি পরিষেবা। এখন থেকে সপ্তাহে দু’দিন শিলিগুড়ি থেকে গয়াবাড়ি পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ ট্রেন। টয়ট্রেনের যাত্রাপথের একটি বড় অংশ ঘিরে রয়েছে মহানন্দা অভয়ারণ্য। সেই অরণ্যের বুক চিরেই এবার ছুটবে পাহাড়ি ‘খেলনা গাড়ি’, যা পর্যটকদের দেবে ভয়, উত্তেজনা আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের মিশেল।
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর) কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, পিপিপি (PPP) মডেলে দীর্ঘ ছয় বছর পর ফের চালু হল এই টয়ট্রেন জঙ্গল সাফারি। তাঁদের আশা, এই বিশেষ পরিষেবা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আরও বেশি করে আকর্ষণ করবে এবং উত্তরবঙ্গের পর্যটনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে।
টয়ট্রেনে জঙ্গল সাফারির সময় পর্যটকেরা উপভোগ করতে পারবেন চা-বাগানের সবুজ দৃশ্য, পাহাড়ি প্রকৃতির রুক্ষ-নরম রূপ এবং স্থানীয় সংস্কৃতির স্বাদ। উত্তরবঙ্গের পাহাড়, প্রকৃতি ও লোকসংস্কৃতির অনন্য অভিজ্ঞতা তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন,
“এ বার পর্যটনের মরসুমে শুধুমাত্র জঙ্গল সাফারিই নয়, পর্যটকদের আকর্ষিত করতে একাধিক নতুন সাফারি পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ছয় বছর পর এই পরিষেবা আবার চালু করা হল। এতে স্থানীয় পর্যটনের প্রসার ঘটবে।”
তিনি আরও জানান,“দার্জিলিং বা কার্শিয়াং তো রয়েইছে। কিন্তু গয়াবাড়ি রুটে টয়ট্রেনের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাই আলাদা। পিপিপি মডেলের মূল উদ্দেশ্য স্থানীয় পর্যটন শিল্প ও কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দেওয়া। রাতের বেলায় কোনও টয়ট্রেন চলবে না। দিনের বেলাতেই দু’টি রাইড সম্পন্ন হবে।”
এই পরিষেবার জন্য নতুন কয়েকটি ইঞ্জিন আনা হয়েছে। পাশাপাশি ব্রিটিশ আমলের বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী কোচ সংস্কার করা হয়েছে, যাতে যাত্রীরা নিরাপদ ও আরামদায়ক সফরের পাশাপাশি ঐতিহ্যের স্বাদও পান।