বঙ্গ রাজনীতিতে ফল ঘোষণার আগেই প্রশাসনিক স্তরে বাড়ছে তৎপরতা। সোমবার দুপুরের পর থেকেই রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে দ্রুতগতিতে কিউআরটি (Quick Response Team) মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, নবান্ন, মহাকরণ, বিকাশ ভবন, জলসম্পদ ভবন ও খাদ্যভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলিতে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। মূল লক্ষ্য—সরকারি নথিপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। সম্প্রতি রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এসে অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সমস্ত সরকারি ফাইল খতিয়ে দেখা হবে। সেই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশাসনের এই সতর্কতা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ নথি লোপাট বা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বর্তমানে রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভবন নবান্ন। যদিও বাম আমলে প্রশাসনের মূল কেন্দ্র ছিল রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবিষ্যতে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে এই ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলির গুরুত্ব ফের বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই কিছু ভবন সংস্কারের পরিকল্পনার কথাও শোনা যাচ্ছে।
এদিকে, রাজ্যে প্রচারে এসে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ একাধিকবার দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। তাঁদের হুঁশিয়ারি—ক্ষমতায় এলে কোনও ফাইলই গোপন রাখা হবে না। ফলে ফল ঘোষণার আগে প্রশাসনিক মহলে যে সতর্কতা বাড়বে, তা অনেকটাই প্রত্যাশিত বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। উল্লেখযোগ্যভাবে, নবান্ন চত্বরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিও বেড়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত জওয়ান। সব মিলিয়ে ভোটের ফল ঘোষণার আগেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে রাজ্যে।