১১৬ দিনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার পরে শনিবার প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বা। খসড়া তালিকার তুলনায় আপাতত ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৬৩ জনের নাম বাদ পড়েছে। তবু সার্বিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৮২টিতে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে।
অর্থাৎ খসড়া তালিকা থেকে যত নাম বাদ পড়েছে, তার চেয়ে বেশি নতুন নাম যুক্ত হয়েছে ওই কেন্দ্রগুলিতে।
সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামে বৃদ্ধি
হুগলির সিঙ্গুর বিধানসভা কেন্দ্রে খসড়ার তুলনায় ৫১ জন ভোটার বেড়েছে।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র কেন্দ্র নন্দীগ্রামে বৃদ্ধি ৭৭০ জন।
কলকাতার বালিগঞ্জ, জোড়াসাঁকো ও বেলেঘাটাতেও ভোটার সংখ্যা বেড়েছে।
জেলাভিত্তিক বৃদ্ধি
কোচবিহারের চারটি, মালদহের পাঁচটি, মুর্শিদাবাদের ছ’টি, নদিয়ার একটি এবং উত্তর ২৪ পরগনার চারটি কেন্দ্রে বৃদ্ধি হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৫টি বিধানসভাতেও ভোটার বেড়েছে।
এ ছাড়া হাওড়ার দু’টি, হুগলির আরও ছ’টি, পূর্ব মেদিনীপুরের চারটি, ঝাড়গ্রামের চারটি, পশ্চিম মেদিনীপুরের পাঁচটি, পুরুলিয়ার দু’টি, বাঁকুড়ার আটটি, পূর্ব বর্ধমানের তিনটি, পশ্চিম বর্ধমানের চারটি এবং বীরভূমের তিনটি কেন্দ্রে বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছে।
মন্ত্রীদের কেন্দ্রেও বৃদ্ধি
রাজ্যের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ের বালিগঞ্জ কেন্দ্রে ভোটার বেড়েছে।
এ ছাড়া মলয় ঘটকের আসানসোল উত্তর, বীরবাহা হাঁসদার ঝাড়গ্রাম এবং মানস ভুঁইয়ার সবং বিধানসভাতেও বৃদ্ধি হয়েছে।
সামগ্রিক চিত্র
খসড়া তালিকায় নাম ছিল ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের। সেখান থেকে বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জন। শনিবার পর্যন্ত মোট বাদ পড়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২।
৬ নম্বর ফর্মে যুক্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬ জন এবং ৮ নম্বর ফর্মে ৬ হাজার ৬৭১ জন। বর্তমানে রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪।
তবে এই তালিকার মধ্যেই ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম এখনও বিচারাধীন। বিচারকদের নিষ্পত্তির পরে আরও পরিবর্তন হতে পারে বলে কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে।
ভোটের আগে চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট না-হলেও ৮২ কেন্দ্রে ভোটার বৃদ্ধির তথ্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।