কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত এক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল তৃণমূলের। মূলত বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিকদের বেআইনি ভাবে আটক, তাদের ‘বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করা এবং ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানোর ঘটনার প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি আয়োজিত হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বহু সাধারণ মানুষ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “যাঁরা জীবিকার খোঁজে বাংলা ছেড়ে বাইরে গেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে জাতি ও ভাষার ভিত্তিতে হেনস্থা করা হচ্ছে। অনেককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বৈধ ভোটার কার্ড, আধার, রেশন কার্ড থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বেআইনি অভিবাসী বলা হচ্ছে। এটা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাকে বারবার অপমান করা হচ্ছে। এবার সেই অপমানের জবাব রাজপথ থেকেই শুরু হবে।”
মমতা আরও বলেন, “আমি অত্যন্ত লজ্জিত, ব্যথিত, দুঃখিত, মর্মাহত ভারত সরকার এবং বিজেপির এই আচরণে। ভারত সরকার একটি নোটিফিকেশন করেছে। সেটি আমরা চ্যালেঞ্জ করব। লুকিয়ে লুকিয়ে (নোটিফিকেশন) করে যেখানে বিজেপি আছে সেখানে পাঠিয়েছে। সেখানে পরিষ্কার বলা হয়েছে, যাকেই সন্দেহ হবে, বাংলায় কথা বলে, তাঁকে অ্যারেস্ট করবে, ডিটেনশন ক্যাম্পে রেখে দেবে। কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলেও (এমন হচ্ছে)।”
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ঘটনার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট রাজ্য প্রশাসনের কাছে প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছে। তবে এখন শুধুমাত্র প্রশাসনিক স্তরে নয়, জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করছেন।
তিনি বলেন, “এটা রাজনীতি নয়, এটা আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। ভাষা, সংস্কৃতি, পরিচয়—সব কিছুই আজ প্রশ্নের মুখে। বাঙালি শ্রমিকদের ‘বিদেশি’ বলে দাগিয়ে দেওয়া কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বাংলার মানুষকে অসম্মান করা হলে, তার জবাব রাজপথেই মিলবে।”