বাংলায় কি আগামী দিনে বিধানসভা আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন হতে চলেছে? শুক্রবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে সেই জল্পনাই।
এ দিন স্পিকার নির্বাচনের পর বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আগামী দিনে অনেক সংস্কারের প্রয়োজন আছে। ডিলিমিটেশন হয়ে গেলে হয়তো আসন সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে নতুন ভবন তৈরির প্রয়োজনও পড়তে পারে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্তরে লোকসভায় ডিলিমিটেশন বিল আনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। নারী শক্তি বন্দন আইনের পাশাপাশি আসন পুনর্বিন্যাস বিলও আনা হতে পারে বলে জল্পনা ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই বিল সংসদে পেশ করা হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় স্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই বাংলার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর মুখে ‘ডিলিমিটেশন’ শব্দ উচ্চারণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এজেন্ডা। যদিও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সংকল্পপত্রে এই বিষয়ে সরাসরি উল্লেখ ছিল না। তবু সরকার গঠনের পর বিধানসভায় এই প্রসঙ্গ তোলায় বিরোধীদের একাংশের প্রশ্ন, ভবিষ্যতে বাংলাতেও কি আসন পুনর্বিন্যাসের পথে হাঁটতে চলেছে সরকার?
সংবিধান অনুযায়ী, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের জন্য সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হলেও বিধানসভার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার কমিশন গঠন করতে পারে রাষ্ট্রপতির অনুমতি নিয়ে। পরে সেই কমিশনের রিপোর্ট বিধানসভায় পাশ করাতে হয়। বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায়, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চাইলে সরকার সেই পথে এগোতেই পারে।
এই প্রসঙ্গে ইতিমধ্যেই উঠে আসছে অসমের উদাহরণ। ২০২৩ সালে অসমে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আমলে আসন পুনর্বিন্যাস হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, সেই পুনর্বিন্যাসের ফলে সংখ্যালঘু ভোটের প্রভাব কমে যায়। আগে যেখানে প্রায় ৩৫টি আসনে সংখ্যালঘুরা নির্ণায়ক ভূমিকা নিতেন, পুনর্বিন্যাসের পরে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২২-এ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বাংলাতেও কি একই ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির চেষ্টা হতে পারে? যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়নি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পর ডিলিমিটেশন ইস্যু যে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় বিতর্ক হয়ে উঠতে পারে, তা বলাই যায়।