এসআইআর প্রক্রিয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে হিংসামুক্ত ভোটই নির্বাচন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য— এমনটাই জানালেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট বলেন, আগামী নির্বাচনে একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না।
গত রবিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গে আসে। সোমবার থেকে দফায় দফায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে একাধিক বৈঠক হয়। প্রথমে রাজ্যের ২৩ জেলার জেলাশাসক, জেলা ও পুলিশ জেলার সুপার এবং রাজ্য ও কেন্দ্রের ২৪টি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হয়।
এই বৈঠকগুলির পর মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জ্ঞানেশ কুমার জানান, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটের উপর সন্তোষজনক। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। কোনও ধরনের উসকানি বরদাস্ত করা হবে না।”
তবে বাংলার নির্বাচনে অতীতে অশান্তির নজির রয়েছে। বোমাবাজি থেকে শুরু করে খুন— নানা ঘটনার সাক্ষী থেকেছে বিভিন্ন জেলা। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ ও মালদহে একাধিক অশান্তির ঘটনা সামনে আসে। যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন তুলনামূলক ভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল এবং ভোট বা ভোট-পরবর্তী হিংসায় কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সেই ধারা বজায় রাখতে কমিশন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। ভোটের কাজে যুক্ত সমস্ত প্রশাসনিক আধিকারিকদের তিনি কেবল নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে কাজ করার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। কোনও রাজনৈতিক দল বা নেতার নির্দেশে কাজ করলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
পুলিশ সুপারদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোথাও হিংসার ঘটনা ঘটলে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল যুগে সোশাল মিডিয়ার প্রভাবের কথাও তুলে ধরে কমিশন জানিয়েছে, গুজব বা উসকানিমূলক প্রচার ঠেকাতে প্রশাসনকে কড়া নজরদারি রাখতে হবে। ভুয়ো খবর ছড়ালে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত, আগামী সপ্তাহেই সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হতে পারে। কবে থেকে এবং কত দফায় ভোট হবে— সেই ঘোষণার দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।