কলকাতা: সরকারি হাসপাতালের আউটডোরে ডাক্তার দেখাতে গেলে সাধারণ মানুষের একটি গোটা দিন নষ্ট হওয়া এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। গড়ে মাত্র ২ মিনিট ডাক্তার দেখানোর জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তিন থেকে চার ঘণ্টা। এই সমস্যার সমাধানে এবং বর্তমান সময়ের কর্মব্যস্ততার কথা মাথায় রেখে এবার রাজ্যজুড়ে চালু হচ্ছে সান্ধ্যকালীন আউটডোর বা ‘ইভিনিং ওপিডি’ (বেলা ৩টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা)।
প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্যের ৮৫টি দ্বিতীয় স্তরের হাসপাতালে—যার মধ্যে জেলা, মহকুমা, স্টেট জেনারেল এবং সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল রয়েছে—সেখানে এই পরিষেবা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। আজ, সোমবার থেকেই শিলিগুড়ি, বালুরঘাট এবং কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে এই পরিষেবা চালু হচ্ছে। মূলত প্রসূতি, স্ত্রী-রোগ এবং শিশু বিভাগের মাধ্যমে এই আউটডোরের যাত্রা শুরু হবে।
কেন এই পরিবর্তন?
স্বাস্থ্যকর্তাদের মতে, বর্তমানে কাজের ধরণ পালটাচ্ছে। দশটা-পাঁচটার বাইরেও অনেকে কাজ করেন। তাছাড়া বেসরকারি হাসপাতালের ধাঁচে সরকারি ক্ষেত্রেও বিকেলের পরিষেবা থাকলে মানুষের সময় বাঁচবে এবং ভিড়ও কিছুটা কমবে। তবে চিকিৎসক ও কর্মীদের একাংশের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা ক্ষোভও রয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং কর্মী ছাড়া অতিরিক্ত এই চাপ সামলানো যাবে তো? বিশেষ করে সন্ধ্যায় চিকিৎসকদের নিজস্ব প্র্যাকটিসের সময়ের সাথে এর সংঘাত হতে পারে বলে আশঙ্কা স্বাস্থ্য প্রশাসকদের।