ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একদিকে যেমন দলবদলের সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। SIR বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ থাকায় নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
রাজ্য রাজনীতির আরেকটি বড় প্রশ্ন এখন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে দাবি, শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ এখনও প্রায় সাড়ে ৫২ লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।
এই বিশাল সংখ্যক তথ্য যাচাইয়ের কাজ বর্তমানে করছেন ৫০১ জন জুডিশিয়াল অফিসার। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে আরও প্রায় ২০০ জন বিচারিক আধিকারিক এই কাজে যুক্ত হতে পারেন। তবু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব নথি যাচাই শেষ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
বর্তমান রাজ্য সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭ মে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তার আগে কি সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করে নির্বাচন করা সম্ভব হবে? যদি তা সম্ভব না হয়, তবে কি ভোট পিছোতে পারে? সেক্ষেত্রে কি সংবিধানের ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে—এই জল্পনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দেবাশিস সেনের মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকাই চূড়ান্ত তালিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। বিবেচনাধীন নামগুলি পরে সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় যুক্ত হতে পারে। তাই সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন ঘোষণা করতে কোনও বাধা নেই বলেই তাঁর মত। এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতার মাঝেই রাজ্যে আসছেন নতুন রাজ্যপাল আর এন রবি। প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক রবির আগমনও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা উস্কে দিয়েছে। সব মিলিয়ে বিধানসভা ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই আরও উত্তপ্ত ও অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি করছে।