কলকাতা: আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর অবশেষে নীরবতা ভাঙল জনপ্রিয় খাদ্য প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘ওয়াও মোমো’ (Wow! Momo)। বুধবার দুপুরে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের গুদামে আগুন লেগেছিল পাশের একটি গুদাম থেকে। যেখানে রাতে অননুমোদিতভাবে রান্নাবান্না চলছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই বিপর্যয় শুধু সংস্থার সম্পদ নয়, কেড়ে নিয়েছে তিন সহকর্মীর প্রাণও।
গত রবিবার মধ্যরাতে নাজিরাবাদের দুটি গুদামে বিধ্বংসী আগুন লাগে। দমকলের ১২টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ভস্মীভূত হয়ে যায় ওয়াও মোমো-র বিশাল গুদামটি। অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১১ এবং উদ্ধার হয়েছে আরও তিনটি বিচ্ছিন্ন দেহাংশ। মৃতদের মধ্যে সংস্থার দুজন স্থায়ী কর্মী এবং একজন চুক্তিবদ্ধ নিরাপত্তারক্ষী রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিপর্যয়ের পর থেকেই ওয়াও মোমো-র অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছিলেন একাংশ। বুধবারের বিবৃতিতে সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ২৬ জানুয়ারি ভোর ৩টে নাগাদ পাশের গুদামে অননুমোদিত রান্নার আগুনই তাদের সত্তাকে গ্রাস করে নিয়েছে। মৃত কর্মীদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ১০ লক্ষ টাকা করে এককালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছে সংস্থা। পাশাপাশি, ওই পরিবারগুলিকে সারাজীবনের জন্য মাসিক বেতন এবং সন্তানদের পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বহনের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে নাজিরাবাদের ধ্বংসস্তূপে কলকাতা পুরসভা ও দমকলের উদ্ধারকাজ জারি রয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার বার্তা দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। তবে আগুন পুরোপুরি নিভলেও ধ্বংসস্তূপের সব জায়গায় এখনও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।