আহমেদাবাদের যে স্টেডিয়ামে আড়াই বছর আগে এক লক্ষের বেশি দর্শকের সামনে ভারতের স্বপ্ন ভেঙেছিল, রবিবার সেই মাঠেই লেখা হল নতুন ইতিহাস। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৭ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হল ভারত। বিশ্বের প্রথম দল হিসেবে পরপর দু’বার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্বও গড়ল তারা। সব মিলিয়ে তৃতীয় বার এই ফরম্যাটের বিশ্বকাপ এল ভারতের ঘরে।
২০২৪ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ২০২৬ সালেও বড় ট্রফি জিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আধিপত্য আরও জোরদার করল ভারত।
ফাইনালের শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ভারতের হাতে। পাওয়ার প্লে-তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ভারতের ওপেনাররা। প্রথম ছয় ওভারে ভারত তুলে ফেলে ৯২ রান, যা টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফাইনালে সর্বোচ্চ পাওয়ার প্লে স্কোরের অন্যতম। সঞ্জু স্যামসন এবং অভিষেক শর্মার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ।
বিশেষ করে সমালোচনার মুখে থাকা অভিষেক শর্মা ফাইনালের মঞ্চেই জবাব দেন নিন্দুকদের। একের পর এক চমকপ্রদ শটে কিউয়ি বোলারদের চাপে ফেলেন তিনি। অন্যদিকে সঞ্জু স্যামসনও শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে বড় রান তোলার ভিত গড়ে দেন।
মাঝের দিকে জিমি নিশামের এক ওভারে তিনটি উইকেট ভারতের ইনিংসে সাময়িক ধাক্কা দিলেও শেষ দিকে শিবম দুবের ঝোড়ো ব্যাটিং আবার ম্যাচের গতি ভারতের দিকে ফেরায়। শেষ ওভার থেকে ২৪ রান তুলে ভারত ২৫০-র গণ্ডি পার করে শক্তিশালী স্কোর দাঁড় করায়।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। অক্ষর পটেলের দুরন্ত বোলিংয়ে দ্রুত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারায় তারা। ফিন অ্যালেন, গ্লেন ফিলিপস ও ড্যারিল মিচেলদের আউট করে ম্যাচে ভারতের দখল আরও শক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে ফিল্ডিংয়েও নজর কেড়েছেন ঈশান কিশন। একাধিক দুরন্ত ক্যাচ ও ফিল্ডিংয়ের মাধ্যমে কিউয়িদের চাপে রাখেন তিনি।
নিউজিল্যান্ড পাওয়ার প্লে-তেই তিনটি উইকেট হারিয়ে পিছিয়ে পড়ে। সেখান থেকে ম্যাচে ফেরার মতো লড়াই আর গড়ে তুলতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে জয় পায় ভারত এবং আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট ওঠে টিম ইন্ডিয়ার মাথায়। এই জয়ের মধ্য দিয়ে শুধু একটি ট্রফিই নয়, ২০২৩ সালের ফাইনালের আক্ষেপও মুছে ফেলল ভারত। আহমেদাবাদের গ্যালারি জুড়ে তাই রবিবার রাত ছিল উচ্ছ্বাস, গর্ব আর ইতিহাস তৈরির সাক্ষী।