মোহন বাগান ক্লাবের সঙ্গে টুটু বসুর সম্পর্ক ছিল কয়েক দশকের। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি ক্লাবের সচিব ছিলেন। পরে দীর্ঘ সময় সভাপতির দায়িত্বও সামলান। ২০১৮ সালে ফের সচিব নির্বাচিত হন এবং দু’বছর সেই দায়িত্বে ছিলেন। ২০২০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত দু’দফায় তিনি আবারও সভাপতির পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তাঁর আমলেই মোহনবাগানে একাধিক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নাইজেরিয়ার ফুটবলার চিমা ওকেরিকে দলে নিয়ে এসে প্রথম বিদেশি ফুটবলার খেলানোর নজির গড়েছিল মোহনবাগান। পরে শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েন্কার সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ক্লাবের নতুন কর্পোরেট অধ্যায়েরও সূচনা হয়েছিল তাঁর হাত ধরেই।
ফুটবলের বাইরে আরও পরিচয়
ফুটবল প্রশাসনের পাশাপাশি টুটু বসুর রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক পরিচিতিও ছিল। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। পাশাপাশি সংবাদপত্র ও ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
গত কয়েক বছর ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি সক্রিয় প্রশাসনিক কাজ থেকে দূরে ছিলেন। হুইলচেয়ার ছাড়া চলাফেরা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তবুও মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে তিনিই ছিলেন সবুজ-মেরুনের অন্যতম অভিভাবক।
শেষবার সম্মানিত হন মোহনবাগান দিবসে
গত বছর মোহনবাগান দিবসে তাঁকে ‘মোহনবাগান রত্ন’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি, বাইচুং ভুটিয়া আইএম বিজয়ন, জোসে ব্যারেটো ও সুব্রত ভট্টাচার্যের মতো ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা।
টুটু বসুর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলার ফুটবল মহলে।