Deprecated: Creation of dynamic property Penci_AMP_Post_Template::$ID is deprecated in /home/ndn4dljdt13e/public_html/newsonly24.com/wp-content/plugins/penci-soledad-amp/includes/class-amp-post-template.php on line 46

Deprecated: Creation of dynamic property Penci_AMP_Post_Template::$post is deprecated in /home/ndn4dljdt13e/public_html/newsonly24.com/wp-content/plugins/penci-soledad-amp/includes/class-amp-post-template.php on line 47
ক্রীড়া নৈপুণ্য, দক্ষতা ও ফুটবলবোধের জন্য বিশ্ব মারাদোনাকে মনে রাখবে - NewsOnly24

ক্রীড়া নৈপুণ্য, দক্ষতা ও ফুটবলবোধের জন্য বিশ্ব মারাদোনাকে মনে রাখবে

সাধনা দাস বসু : বিশ্ব ফুটবলে নক্ষত্র পতন । চলে গেলেন ফুটবলের রাজপুত্র মারাদোনা । গত ২৫শে নভেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইহলোক ত্যাগ করেন তিনি । বয়েস হয়েছিল ষাট বছর । এর আগে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধায় অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল তাঁর ।

পুরো নাম আর্মান্দো দিয়েগো মারাদোনা । যাঁর পায়ের জাদুতে মুগ্ধ গোটা দুনিয়া । পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চির ছোটখাটো চেহারার এই খেলোয়াড়টির স্কিল ও ক্ষিপ্রতা তাঁকে সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের অন্যতমর শিরোপা এনে দিয়েছে ।

১৯৬০ সালের ৩০শে অক্টোবর আর্জেন্তিনার বুয়েনোস আইরেসে মারাদোনা জন্মগ্ৰহন করেন । ছোটবেলা থেকেই তাঁর প্রতিভা প্রকাশ পায়। নজরে পড়েন প্রশিক্ষক ফ্রান্সিসকো কর্ণেজোর । সুযোগ মেলে আর্জেন্তিনোস জুনিয়র্সে । সেই শুরু । মাঝমাঠের আক্রমণভাগের এই খেলোয়াড়টিকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয় নি । তাঁর নেতৃত্বে টানা ১৩৬টি ম্যাচে অপরাজিত থাকে সেই দল । ১৯৭৬ সালে আর্জেন্তিনার শীর্ষ পর্যায়ের লিগে অভিষেক হয় মারাদোনার । টানা তিন বছর লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন । ১৯৮১তে যোগ দেন বোকা জুনিয়র্সে । পরের বছর পাড়ি দেন ইউরোপে । যোগ দেন বার্সেলোনায় । এরপর নাপোলি এবং সেভিয়াতেও  খেলেছেন । ১৯৮২ থেকে টানা এগারো বছর মারাদোনা ইউরোপে খেলেছিলেন । তাঁর দেখানো পথ ধরেই লাতিন আমেরিকার ফুটবলাররা ইউরোপে খেলতে আসেন। ১৯৭৯ , ৮৭ ও ৮৯ – তিনটি কোপা আমেরিকায় অংশ নিয়েছিলেন । ১৯৮২ থেকে টানা চার বার আর্জেন্তিনার জার্সি গায়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন বিশ্বকাপ ফুটবলে । তাঁর নেতৃত্বে আর্জেন্তিনা ১৯৮৬তে বিশ্বকাপ জয় করে । মারাদোনা গোল্ডেন বল পেয়েছিলেন । ৮৬ র বিশ্বকাপেই কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্তিনা ২- ১ গোলে জয়ী হয় । সেই ম্যাচে  মারাদোনার করা দুটি গোলই ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে । প্রথম গোলটি ছিল হ্যান্ডবল , যা ” হ্যান্ড অফ গড ” নামে খ্যাত । দ্বিতীয় গোলটি তিনি করেছিলেন ৬০ মিটার দূর থেকে ড্রিবলিং করে , ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের পাঁচ জন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে । ২০০২ সালে এই গোলটি ফুটবল প্রেমীদের ভোটে শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ।

১৯৯১ সালে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করে নতুনরূপে জীবন শুরু করেন । তেক্সতিল মান্দিয়ুতে ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন । এরপর রেসিং ক্লাবসহ আরো কয়েকটি ক্লাবে কাজ করেন ।

২০০৮ থেকে ২০১০ পর্যন্ত  আর্জেন্তিনার জাতীয় দলের প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন মারাদোনা। তাঁর প্রশিক্ষণে আর্জেন্তিনা ২০১০ এ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায় । ২০১৯ থেকে আমৃত্যু তিনি লা প্লাতার ম্যানেজার ছিলেন ।

ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯০ সালে মারাদোনাকে আর্জেন্তিনার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ডায়মন্ড কোনেক্স পুরস্কার দেওয়া হয় । ২০০০ সালে ভোটের মাধ্যমে মারাদোনা , পেলের সঙ্গে যৌথভাবে ফিফা শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড়ের শিরোপা অর্জন করেন ।

২০০০ সালেই মারাদোনা তাঁর আত্মজীবনী ‘ ইয়ো সো এল দিয়েগো ‘ ( আমি দিয়েগো ) প্রকাশ করেন । বইটি আর্জেন্তিনার সর্বাধিক বিক্রিত বই হিসেবে স্বীকৃত হয় ।

এ হেন কিংবদন্তি ফুটবলারকে ব্যক্তিগত জীবনে বহু সংগ্ৰামের সম্মুখীন হতে হয়েছিল । একটা সময় মাদকাসক্ত হয়ে গিয়েছিলেন । তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য চিকিৎসা করান । আর এই মাদক থেকেই তিনি স্থূলত্ব রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন ।

মারাদোনার  অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্য , দক্ষতা ও ফুটবলবোধের জন্য এই বিশ্ব তাঁকে মনে রাখবে । সেই কারণেই তাঁর মৃত্যুতে আর্জেন্তিনা সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে । আর সেই কারণেই অতিমারীকে উপেক্ষা করে মারাদোনার শেষযাত্রায় সমবেত হয় লক্ষ লক্ষ মানুষ । চোখের জলে তারা বিদায় জানায় ফুটবলের রাজপুত্রকে ।

ছবি সৌজন্যে : নিউ ইর্য়ক টাইমস

Related posts

আইপিএল ম্যাচে বৃষ্টির ছায়া? কলকাতায় সন্ধ্যায় ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা, কী বলছে আবহাওয়া

আইপিএল সূচি ঘোষণা! ২৮ মার্চ শুরু, মোট ৭০ ম্যাচ—কেকেআরের খেলায় নজর ইডেনে বিরতি ভোটের কারণে

নিউজিল্যান্ডকে ৯৭ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ভারত, আহমেদাবাদে ভাঙল পুরনো আক্ষেপ