অবশেষে মঙ্গলবার থেকে শুরু হল একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাউন্সেলিং। প্রথম দিনে মোট ৭০ জন যোগ্য চাকরিহারা ও নতুন চাকরিপ্রার্থীর হাতে সুপারিশপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। যদিও দু’-তিন জনের নথিতে গরমিল থাকায় তাঁদের সুপারিশপত্র দেওয়া হয়নি।
মোট ১২,৪৪৫টি শূন্যপদের মধ্যে প্রথম ধাপে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে ৫০০টি শূন্যপদ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গল ও বুধবার মিলিয়ে সাতটি বিষয়ের মোট ১৮২ জন প্রার্থী সুপারিশপত্র পাবেন বলে জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় পর্যায় কবে?
কাউন্সেলিংয়ের দ্বিতীয় পর্ব কবে শুরু হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে এসএসসির চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার জানান, আগামী ১ ও ৮ মার্চ গ্রুপ সি ও ডি-র পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের কাউন্সেলিং করা সম্ভব হতে পারে।
তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ১৭০০ ভেনুতে গ্রুপ সি ও ডি পরীক্ষা হচ্ছে। পরীক্ষা পরিচালনার জন্য আমাদের কর্মীরা ইতিমধ্যেই দায়িত্বে রয়েছেন। পরীক্ষা শেষের পরেও নানা প্রশাসনিক কাজ থাকে। এই পরিস্থিতিতে কাউন্সেলিং একসঙ্গে সামলানো সম্ভব নয়।”
নতুন বনাম চাকরিহারা বিতর্ক
নতুন প্রার্থীদের জন্য আসনসংখ্যা বৃদ্ধির দাবি উঠেছিল। পাশাপাশি চাকরিহারা প্রার্থীদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়ার বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছিলেন নতুনরা। তবে এদিন কাউন্সেলিং চলাকালীন যোগ্য প্রার্থীদের হাতে সুপারিশপত্র পৌঁছতেই আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রাজারহাটের বাসিন্দা নৃতত্ত্বের ছাত্রী নাদিরা কালাম বলেন, “এই প্রথম পরীক্ষায় বসেছিলাম। চাকরি পাব কি না জানতাম না। আজ সুপারিশপত্র হাতে পেয়ে খুব খুশি। এখন নিয়োগপত্র পাওয়ার অপেক্ষা।”
অন্যদিকে, চাকরি ফিরে পাওয়া নিয়ে উদ্বেগে থাকা অনেক চাকরিহারার মুখেও এদিন স্বস্তির হাসি ফুটেছে। সুপারিশপত্র হাতে পেয়ে অনেকের চোখে জল, মুখে লড়াই জয়ের তৃপ্তি।