ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্য সরকারের আবেদন শুনে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার মূলত হাই কোর্টেরই। ফলে রাজ্যের আর্জি কার্যত ফিরিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগগুলি শুনতে ট্রাইবুনাল গঠন করা হবে।
সোমবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এই সংক্রান্ত শুনানি হয়। রাজ্যের তরফে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, এসআইআর প্রক্রিয়ার পরে এখনও প্রায় ৫৭ লক্ষ ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে। বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
তবে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি জানান, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ইতিমধ্যেই শীর্ষ আদালতকে জানিয়েছেন যে প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। বিচারবিভাগীয় যাচাইয়ের কাজ যখন চলছে, তখন এই ধরনের আবেদন কেন করা হল— সে প্রশ্নও তোলেন প্রধান বিচারপতি।
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, প্রকৃত ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায় তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের। সেই কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং হাই কোর্টের তত্ত্বাবধানে তা চলবে। ফলে এই বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি সুপ্রিম কোর্ট।
শুনানির সময় আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশের দাবি জানান। আদালত জানায়, এখনও নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়নি। তাই এই মুহূর্তে নতুন নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আগে নির্বাচন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হোক, তার পরে প্রয়োজন হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
শীর্ষ আদালত আরও জানায়, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগগুলি শুনতে একটি ট্রাইবুনাল গঠন করা হবে। সেখানে ভোটাররা নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার নিষ্পত্তি করা হবে।
এদিকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের কাজে প্রযুক্তিগত সমস্যার বিষয়েও আলোচনা হয় আদালতে। জানা যায়, আধিকারিকদের জন্য তৈরি করা লগইন আইডি নিয়ে কিছু ত্রুটি দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন আদালতকে আশ্বাস দিয়েছে, দ্রুত সেই প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান করা হবে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির অনুমোদন ছাড়া এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না যাতে বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য সরকারকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যাতে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা নির্বিঘ্নে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।