ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ হয়ে যাওয়ার পরও বাদ পড়া ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের ভোটাধিকার থাকবে কি না—এই প্রশ্নে আশার আলো দেখাল সুপ্রিম কোর্টে। শুক্রবার দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানায়, বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগে ১৩ জন ভোটার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন। তাঁদের দাবি, খসড়া তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও এবং ট্রাইবুনালে আবেদন করার পরও কেন তাঁদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে।
শুনানির সময় আবেদনকারীদের আইনজীবী রউফ রহিম বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন। তখন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “১৩ এপ্রিল এসআইআর মামলার শুনানি রয়েছে। সেদিনই এই বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। আমাদের লক্ষ্য, প্রকৃত ভোটাররা যেন চিরতরে ভোটাধিকার না হারান।”
তবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে দেন, “গ্যারান্টি দেওয়া হচ্ছে না, বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল। তার আগে ৬ এপ্রিল প্রথম দফার ১৫২টি আসনের ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ করা হয়েছে। একইভাবে দ্বিতীয় দফার (২৯ এপ্রিল) ১৪২টি আসনের তালিকাও ৯ এপ্রিল চূড়ান্ত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এই তালিকাই ভোটের ভিত্তি।
কিন্তু আবেদনকারীদের দাবি, তাঁদের পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও নাম বাদ পড়েছে। ফলে ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্তের আগে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষের আইনজীবী জানান, তালিকা ফ্রিজ হওয়ার পর আর নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। তবে ট্রাইবুনাল যদি কাউকে বৈধ ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে তিনি ভবিষ্যতের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। এই পরিস্থিতিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও আইনি মহল। ১৩ এপ্রিলের শুনানিতে স্পষ্ট হবে—ফ্রিজ হওয়া তালিকার পরও কি ভোটাধিকার রক্ষা করা সম্ভব, নাকি বাদ পড়া ভোটারদের অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য।