প্রথম পাতা খবর আইপ্যাককে নিশানা করে বারাসত জেলা সভাপতির পদ ছাড়লেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার

আইপ্যাককে নিশানা করে বারাসত জেলা সভাপতির পদ ছাড়লেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার

126 views
A+A-
Reset

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের অন্দরে শুরু হয়েছে আত্মসমালোচনা ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ। সেই আবহেই বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদার। দলীয় রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে পাঠানো চিঠিতে তিনি বারাসতে দলের পরাজয়ের নৈতিক দায় স্বীকার করার পাশাপাশি নাম না করে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সংগঠনের অন্যতম পরিচিত মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। মমতা ব নেতৃত্বে আন্দোলনের রাজনীতি থেকে শুরু করে সাংসদ ও সংগঠক হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। টানা তিনবার বারাসতের সাংসদ হওয়ার পাশাপাশি মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী ও সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপ হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। তবে বিধানসভা নির্বাচনে দলের খারাপ ফলের পর সেই পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং দায়িত্ব দেওয়া হয় Kalyan Banerjee-কে। সেই সময়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন কাকলি। লিখেছিলেন, “দলের প্রতি চার দশকের আনুগত্যের পুরস্কার মিলল।”

রবিবার ইস্তফাপত্রে কাকলি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুর্নীতির অভিযোগে। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, পুরনো ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের গুরুত্ব কমিয়ে ভুঁইফোড় সংস্থার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও তিনি সরাসরি আইপ্যাকের নাম লেখেননি, পরে সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্টভাবেই সেই সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন।

কাকলির অভিযোগ, “আইপ্যাককে আমি নিয়োগ করিনি। কিন্তু দেখেছি, ওদের বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েরা এসে আমাদের মতো সর্বক্ষণের কর্মীদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করেছে। আমি ১৭ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি। আমার অফিস ২৪ ঘণ্টা মানুষের জন্য খোলা থাকে। এত কাজ করার পরেও মানুষ আমাদের সঙ্গে থাকল না। তার মানে মানুষ মেনে নেয়নি।”

তিনি আরও দাবি করেন, “দলে সর্বস্তরে দুবৃত্তায়ন হয়েছে। তবে তৃণমূলের ৮০-তে নেমে যাওয়া আমি মেনে নিতে পারছি না।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, দলের ভিতরে এত সমস্যা বুঝতে পারলে আগে কেন নেতৃত্বকে সতর্ক করেননি তিনি? ভোটে ভরাডুবির পর প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করাকে অনেকেই দলের অভ্যন্তরীণ সংকটের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর ২৪ পরগনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় তৃণমূলের পরাজয়ের পর কাকলির ইস্তফা দলের অন্দরের অসন্তোষকে আরও প্রকাশ্যে এনে দিল। আগামী দিনে এই ক্ষোভ আরও বড় আকার নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.