প্রথম পাতা খবর চৈত্রেই তাপপ্রবাহের ইঙ্গিত! ৪০ ছুঁতে পারে পারদ, দক্ষিণবঙ্গে জারি সতর্কতা

চৈত্রেই তাপপ্রবাহের ইঙ্গিত! ৪০ ছুঁতে পারে পারদ, দক্ষিণবঙ্গে জারি সতর্কতা

14 views
A+A-
Reset

চৈত্রের শেষলগ্নেই গরমের দাপট বাড়তে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গে। বৈশাখের আগমনের আগেই তীব্র তাপপ্রবাহের ইঙ্গিত মিলছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আপাতত গরম থেকে স্বস্তির তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই, বরং আগামী কয়েক দিনে আরও বাড়বে তাপমাত্রা ও অস্বস্তি।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বিহার থেকে মণিপুর পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে, যার উচ্চতা সমুদ্রতল থেকে প্রায় ০.৯ কিলোমিটার। এর জেরে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে গাঙ্গেয় বঙ্গে ক্রমাগত শুকনো গরম বাতাস ঢুকছে। ফলে তাপমাত্রার পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতাও বাড়ছে, যা গরমকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলছে। ১৪ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি—পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমান—এই সময় সবচেয়ে বেশি গরম ও আর্দ্রতার কবলে পড়তে পারে। তবে দক্ষিণের অন্যান্য জেলাগুলিতেও গরমের তীব্রতা বাড়বে। আর্দ্রতার কারণে ‘হিট ইনডেক্স’ বেড়ে গিয়ে বাস্তব অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি লাগতে পারে।

যদিও কিছু জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে—ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমে—তবে এই বৃষ্টি গরম কমানোর পক্ষে যথেষ্ট নয়। বরং অল্প বৃষ্টির পরে ভ্যাপসা গরম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

উত্তরবঙ্গে আপাতত বড় কোনও সতর্কতা না থাকলেও আগামী তিন দিনে তাপমাত্রা ৩–৪ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও ৩০–৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, ইতিমধ্যেই কলকাতার পারদ ৩৫ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। জেলায় তাপমাত্রা আরও বেশি। আগামী দিনে তা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন আবহবিদরা। সোমবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৭ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। রবিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গরম থেকে বাঁচতে সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য ঝুঁকি বেশি। সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, শরীরে জলের ঘাটতি এড়াতে পর্যাপ্ত জল পান করার কথাও বলা হয়েছে, তেষ্টা না পেলেও।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.